দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮০ জনে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৯ জন।শনিবার (৭ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে দুজন করে মারা গেছেন।এ সময়ে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৪৬৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৬৩ জন, সিলেটে ১৪২ জন, বরিশালে ৯৭ জন, ময়মনসিংহে ৫২ জন, খুলনায় ৪০ জন, রাজশাহীতে ৩৩ জন এবং রংপুরে ৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ২ লাখ ১১ হাজার ৮৬৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ লাখ ৩ হাজার ২৫৭ জন।এ সময়ে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭০২ জনে। তাদের মধ্যে ২৪ হাজার ৩৫৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘ডিসেম্বরে কেউ আসতে চাচ্ছে, আমরা প্রস্তুত আছি’।শনিবার (৭ নভেম্বর) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।নাহিদ ইসলাম বলেন, আগেরবার ছাত্র-জনতা অনেক উদারতা দেখিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির মতো শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ দেখিয়েছি। এবার আর সেই পথ অনুসরণ করা হবে না। আপাকে ফাঁসির মঞ্চে ওঠানোর জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে এ মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদসহ এনসিপি ও ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে এনসিপি ও ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।’তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।’আজ শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।তিনি বলেন, ‘একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকে ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। আজকের এই র্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন।’তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন।’নয়াপল্টনে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর কাছে সমর্থন চেয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন?’ এই সময় নেতাকর্মী-সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়।বিকেল ৩ টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী।এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।দুপুর ১২টা থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করে। দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।নেতা-কর্মীদের হাতে শোভা পায় বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোকচিত্রসংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে নেতা-কর্মীরা র্যালিকে বর্ণাঢ্য করে তোলে।নেতাকর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ভেতর ও বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন।'প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র জনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনে নাই। দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।’ অতীতের মতো এখনও একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করতে চায়, আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’ বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে র্যালিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি হাত উঁচিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন। মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে র্যালিতে অংশ নেন।Article Content Editor Sub Title Enter sub title... Credit Line নিজস্ব প্রতিবেদক Title * কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী Article Details * ছবি: সংগৃহীত Vok/lh/ প্রযুক্তি ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক ডেস্ক নিউজ: লাইফস্টাইল ডেস্ক রান্নাঘর ডেস্ক প্রবাস ডেস্ক চাকরি ডেস্ক স্বাস্থ্য ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক বিনোদন ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক পটুয়াখালী প্রতিনিধি নিজস্ব প্রতিবেদক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।’ তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।’ আজ শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সার্বভৌমত্ব’ র্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ‘একাত্তরের মতো, নব্বইয়ের মতো, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো আবারও দাঁতভাঙা জবাব আমরা দিতে চাই। আজকে ৭ নভেম্বরের সার্বভৌমত্ব র্যালি হোক আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। আজকের এই র্যালি হোক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার দিন।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে, সেটি হোক গণতন্ত্র রক্ষার দিন।’ নয়াপল্টনে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর কাছে সমর্থন চেয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কি আমাদের সঙ্গে আছেন?’ এই সময় নেতাকর্মী-সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়। বিকেল ৩ টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ। দুপুর ১২টা থেকেই ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টনে সমবেত হতে শুরু করে। দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নেতা-কর্মীদের হাতে শোভা পায় বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোকচিত্রসংবলিত প্ল্যাকার্ড। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ ও গেঞ্জি পরিধান করে নেতা-কর্মীরা র্যালিকে বর্ণাঢ্য করে তোলে। নেতাকর্মী-সমর্থকসহ দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ভেতর ও বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে নিয়ে আমরা সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন, ৭ নভেম্বর হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিন।' প্রধানমন্ত্রী নিজে স্লোগান ধরে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র জনতা শুধু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ফিরিয়ে আনে নাই। দেশের মানুষ স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। যেভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একইভাবে সেই অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, দেশের মানুষের অংশগ্রহণে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।’ অতীতের মতো এখনও একটি পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবারও তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করতে চায়, আবার তারা আমি-ডামি নির্বাচনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়। এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘যে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করতে পারে, যে দেশের মানুষ ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটাতে পারে, যে দেশের মানুষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারে, সে দেশের মানুষকে ষড়যন্ত্র করে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’ বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে র্যালিতে যোগ দেন। এ সময় তিনি হাত উঁচিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পৌঁছে সমাপনী বক্তব্য দেন। মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে র্যালিতে অংশ নেন। SEO Settings Intelligence Meta Title SEO title for search engines... 0 / 70 Meta Description Brief description for search engines... 0 / 160 Meta Image No file chosen Click to upload meta image Recommended: 1200×630px · JPG, PNG Featured Image No file chosen Click to upload thumbnail JPG, PNG, WebP · Max 5MB Image Caption
অভিষেকটা নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবেন তাওহিদ হৃদয়। জিম্বাবুয়ে সফরে ম্যাচটা হেরেছিল বাংলাদেশ, নিজেও ভালো করতে পারেননি। তবে এরপর নিজে সাদা পোশাকে অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছেন জিম্বাবুয়ের পড়শি দক্ষিণ আফ্রিকায়। সে সূত্রে আবারও দলে ডাক পাওয়া। সেই তাওহিদ হৃদয় এবার সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে গেলেন। উইন্ডিজের বিপক্ষে দল যখন ধুঁকছে, তখন নিঃসঙ্গ শেরপা হয়ে লড়লেন একাই। সিলেটের উইকেটটা কঠিন হয়নি এখনও, তবে পরিস্থিতিটা এরপরও কঠিন হয়ে পড়েছে সঙ্গীদের আসা যাওয়ার মিছিলে। একের পর এক ব্যাটার আসছেন, আর যাচ্ছেন। দিনের শুরু হয় মুশফিকুর রহিমের উইকেট দিয়ে, এরপর লিটন দাসও মুশফিকের মতোই ক্যাচিং প্র্যাকটিস করিয়ে ফেরেন সাজঘরে।১৩৮ রানে চলে গিয়েছিল ৫ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজের এমন পরিস্থিতিতে অনেক ভালো ইনিংস আছে, তবে আজ তার পুনরাবৃত্তি ঘটল না, তিনি রস্টন চেসের শিকার হয়ে ফিরলেন ১৬ রান করে। হাসান মাহমুদও ফিরলেন শিগগিরই।ওপাশে যখন এভাবে একের পর এক আসা যাওয়া চলছে সঙ্গীদের, এপাশে তাওহিদ ছিলেন বেশ সাবলীল। সেশনের শেষ দিকে বেশ দায়িত্বশীলতার পরিচয়ও দিয়েছেন। সঙ্গী তাইজুল বহুবার সিঙ্গেলের জন্য ডাকলেও স্ট্রাইক ধরে রেখেছেন, স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে যা করা প্রয়োজন, করেছেন সেটাই। এপাশে সহজে রান আসছিল। সে সুযোগগুলো লুফে নিয়ে চলে গেছেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে। সেঞ্চুরি!তার সেঞ্চুরির পরপরই অবশ্য সেশন শেষের ঘোষণা দিয়েছেন আম্পায়ার। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ তুলেছে ২০৫ রান, উইন্ডিজের ছুঁড়ে দেওয়া ৩৫৬ থেকে এখনও আছে ১৫০ রানের দূরত্বে।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বসছে দেশের জনপ্রিয় সাতটি ব্যান্ডের উন্মুক্ত কনসার্ট। শনিবার (৭ নভেম্বর) আয়োজিত এ সংগীতানুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন নগর বাউল জেমস, মাইলস, ওয়ারফেজ, ফিডব্যাক, আর্টসেল, শিরোনামহীন ও মেকানিক্স। প্রিয় শিল্পী ও ব্যান্ডের গান সরাসরি উপভোগের সুযোগ পাবেন সংগীতপ্রেমীরা।জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’ শিরোনামে এ আয়োজন করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হবে কনসার্টটি।আয়োজকদের সূচি অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৪টায় শুরু হবে মূল সংগীতানুষ্ঠান। দর্শকদের জন্য অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হবে বিকেল ৩টায়। প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী এ আয়োজনে কোনো প্রবেশমূল্য লাগবে না। অর্থাৎ বিনা টিকিটেই উপভোগ করা যাবে কনসার্ট।একই মঞ্চে দেশের জনপ্রিয় সাতটি ব্যান্ডের পরিবেশনা ঘিরে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। বিশেষ করে জেমসের জনপ্রিয় গান, মাইলসের কালজয়ী পরিবেশনা, ওয়ারফেজ ও আর্টসেলের রক সংগীত উপভোগের অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা।সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে উন্মুক্ত স্থানে বড় পরিসরের কনসার্ট আয়োজন কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাতটি জনপ্রিয় ব্যান্ডের অংশগ্রহণে এই আয়োজন সংগীতপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাব দেশের বাজারের স্বর্ণের দামে পড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এবার ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়েছে। এতে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা নির্ধারণ হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে। এরআগে, গত বুধবার ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়েছে বাজুস।নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৩৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৬৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৭ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়।
২ দিন আগে
পবিত্র ওমরাহ পালনের স্বপ্ন পূরণে আর্থিক সীমাবদ্ধতা অনেকের জন্য বড় বাধা। সেই বাধা দূর করতে বিশেষ সুযোগ নিয়ে এসেছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। দেশটির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে ওমরাহ পালনের প্যাকেজ জেতার সুযোগ পাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা।প্রতিদিন কুইজ ও লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন বিজয়ীরা। বিশেষ আকর্ষণ হলো, প্রত্যেক বিজয়ী নিজের সঙ্গে পরিবারের একজন সদস্য কিংবা পছন্দের অন্য একজনকে বিনা খরচে ওমরাহ পালনের সুযোগ দিতে পারবেন।প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর শুরু হওয়া এই বিশেষ প্রতিযোগিতা চলবে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। পুরো নভেম্বর মাসজুড়ে প্রতিদিন বিজয়ী নির্বাচন করা হবে।প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের ওমরাহ পালনের নির্ধারিত যাবতীয় খরচ বহন করবে সৌদি সরকার। প্যাকেজের আওতায় থাকছে নিজ দেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, ওমরাহ ভিসা প্রক্রিয়াকরণ এবং পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ১০ রাত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা।এ ছাড়া প্রতিদিন নির্বাচিত বিজয়ী নিজের সঙ্গে পরিবারের একজন সদস্য অথবা পছন্দের অন্য একজনকে বিনা খরচে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ প্রতিদিন একজন বিজয়ীর পাশাপাশি তার মনোনীত আরেকজনও ওমরাহ পালনের সুযোগ পাবেন।মূল ওমরাহ প্যাকেজের পাশাপাশি প্রতিদিন লটারির মাধ্যমে আরও ১০ জনকে দেওয়া হবে জমজমের পানির বিশেষ কার্ড। প্রতিটি কার্ডে থাকবে ২০টি কুপন। এর মধ্যে ১০টি নিজের ব্যবহারের জন্য এবং বাকি ১০টি অন্যদের উপহার দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।যেভাবে অংশ নেবেন প্রতিযোগিতায়প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী মুসলমানরা অংশ নিতে পারবেন। এ জন্য প্রথমে স্মার্টফোনে নুসুকের অফিশিয়াল অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে হবে।নিবন্ধনের সময় নাম, ইমেইল ঠিকানা, দেশ ও পাসপোর্টসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। এরপর ইমেইলে পাঠানো এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি) কোডের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট যাচাই করতে হবে।নিবন্ধন সম্পন্ন হলে অ্যাপের ‘গেম সেন্টার’ অথবা ‘নুসুক চ্যালেঞ্জ’ বিভাগে গিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যাবে। সেখানে ইসলামিক ইতিহাস, পবিত্র কোরআন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন এবং ওমরাহসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সঠিক উত্তরদাতাদের নাম প্রতিদিনের লটারির তালিকায় যুক্ত হবে।এ ছাড়া ইনভাইট কোডের মাধ্যমে বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের প্রতিযোগিতায় আমন্ত্রণ জানালে অতিরিক্ত ডিজিটাল চাবি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এসব চাবি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের অতিরিক্ত সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের শুধু নুসুকের অফিশিয়াল অ্যাপ ও যাচাইকৃত মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন বা কুইজে অংশ নিলেই ওমরাহ প্যাকেজ নিশ্চিত হবে না। প্রতিদিনের বিজয়ী নির্বাচন করা হবে লটারির মাধ্যমে। তাই অংশগ্রহণকারীদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে।
সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে কিংবা কাজের ফাঁকে চাঙা থাকতে অনেকেই ভরসা করেন এনার্জি ড্রিংকের ওপর। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এসব পানীয়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তবে সাময়িকভাবে শরীর চাঙা করা এই পানীয়ই ডেকে আনতে পারে হৃদযন্ত্রের বড় বিপদ। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এনার্জি ড্রিংক ও উদ্দীপক উপাদানযুক্ত সম্পূরক গ্রহণের সঙ্গে তরুণদের গুরুতর হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। এসব পণ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায় ১১ গুণ এবং হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সাড়ে ৪ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিদ্যা বিভাগের গবেষকেরা ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনে জমা পড়া ২৮ হাজার ৩৪৫টি অভিযোগ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫৪টি অভিযোগ ছিল ক্যাফেইনযুক্ত এনার্জি ড্রিংক ও উদ্দীপক সম্পূরক পণ্য নিয়ে। বাকি অভিযোগগুলো ছিল উদ্দীপক উপাদানবিহীন (Stimulus-free) পণ্য সম্পর্কে।গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণ পণ্যের তুলনায় এনার্জি ড্রিংক ও উদ্দীপক সম্পূরক গ্রহণের পর হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রায় ১১ গুণ বেশি। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ সাড়ে ৪ গুণ এবং হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা ও বুক ধড়ফড়ের অভিযোগ প্রায় চার গুণ বেশি পাওয়া গেছে। হৃদযন্ত্রের সমস্যা–সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর প্রায় ৪৫ শতাংশই ছিল ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের।গবেষণার প্রধান গবেষক সাই সামায়ামানথুলা বলেন, এসব পানীয়কে সাধারণ কোমল পানীয়ের মতো করেই বাজারজাত করা হয়। ফলে অনেকেই এগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত মনে করেন। তবে নিয়মিত এনার্জি ড্রিংক ও উদ্দীপক উপাদানযুক্ত সম্পূরক গ্রহণ করলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যাফেইন প্রবেশ করতে পারে, যা হৃদযন্ত্রের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়াতে পারে।কেন বাড়ছে হৃদযন্ত্রের ঝুঁকি?এনার্জি ড্রিংকে থাকা ক্যাফেইন হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়াতে পারে। এছাড়া এসব পানীয়তে গুয়ারানা, টরিন, ইয়েরবা মাতে, থিওব্রোমিনসহ বিভিন্ন উদ্দীপক উপাদান থাকে। এগুলো ক্যাফেইনের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত উদ্দীপক উপাদান গ্রহণের ফলে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ কিংবা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দনের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ঝুঁকি বেশি।গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কিছু এনার্জি ড্রিংকে প্রতি আউন্সে সাধারণ কফির তুলনায় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি ক্যাফেইন থাকতে পারে। ফলে একাধিক পানীয় গ্রহণ করলে অজান্তেই শরীরে অতিরিক্ত ক্যাফেইন জমা হতে পারে।দিনে কতটুকু ক্যাফেইন নিরাপদ?গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণ সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। পরিমাণটি প্রস্তুতপ্রণালির ওপর নির্ভর করে প্রায় চার থেকে পাঁচ কাপ সাধারণ কফির সমান।তবে একটি এনার্জি ড্রিংকের কৌটায় ৮০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন থাকতে পারে। এর সঙ্গে চা, কফি কিংবা উদ্দীপক উপাদানযুক্ত অন্যান্য সম্পূরক গ্রহণ করলে দৈনিক নিরাপদ মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন কিংবা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে এ ধরনের পানীয় গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত শরীরচর্চার সময় কিংবা মদ্যপানের সঙ্গে এনার্জি ড্রিংক গ্রহণও বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেনঅতিরিক্ত ক্যাফেইন ও উদ্দীপক উপাদান গ্রহণের ফলে কয়েকটি শারীরিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—বুক ধড়ফড় করা।বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি।মাথা হালকা লাগা বা ঝিমঝিম করা।হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়া।বুকে ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।এনার্জি ড্রিংক গ্রহণে সতর্কতা জরুরিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে প্রতিদিন কতটুকু ক্যাফেইন গ্রহণ করা হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। শুধু এনার্জি ড্রিংক নয়, চা, কফি, শরীরচর্চার আগে খাওয়া পানীয় এবং বিভিন্ন সম্পূরক পণ্যের ক্যাফেইনের পরিমাণও হিসাব করতে হবে।পণ্যের মোড়কে থাকা উপাদানের তালিকা ভালোভাবে পড়তে হবে। বিশেষ করে গুয়ারানা ও সিনেফ্রিনের মতো অতিরিক্ত উদ্দীপক উপাদান রয়েছে কি না, তা খেয়াল রাখা প্রয়োজন।তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই গবেষণা প্রাথমিক পর্যায়ের। এখানে পাওয়া তথ্য এনার্জি ড্রিংক গ্রহণের সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক তুলে ধরলেও, এসব পানীয় সরাসরি হৃদরোগের কারণ—এমন প্রমাণ দেয় না। কারণ, গবেষণাটি স্বেচ্ছায় জমা দেওয়া অভিযোগের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া যারা এসব পানীয় গ্রহণ করেও কোনো সমস্যায় পড়েননি, তাদের সংখ্যা জানা যায়নি।তাই প্রকৃত ঝুঁকি নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট—সাময়িকভাবে চাঙা হওয়ার জন্য নিয়মিত অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংক গ্রহণের অভ্যাস হৃদযন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে স্কুলগুলোর বিতর্ক চলাকালে শিক্ষার্থীদের জন্য এআই ফিচার চালু করে সমালোচনার মুখে পড়ে গুগল। এরপরই ছাত্রছাত্রীদের জন্য তাদের এআই টুলগুলো ডিফল্ট বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল।সান ফ্রান্সিসকো, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আমেরিকান স্কুলগুলোতে প্রযুক্তি খাতের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে এই সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্টের। দেশটির বিভিন্ন স্কুলের ক্লাসরুমে জিমেইল, ডকস এবং ক্লাসরুম প্ল্যাটফর্মের মতো তাদের শিক্ষাবিষয়ক অ্যাপগুলো ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া কম দামের ক্রোমবুক ল্যাপটপগুলোই মার্কিন স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি দিয়ে থাকে।মঙ্গলবার একটি ব্লগ পোস্টে গুগলের ঘোষণা অনুযায়ী, স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে এগুলো না চালু করা পর্যন্ত কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণির (কে-১২) শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টগুলোতে জেমিনি, জেমিনি নোটবুক, ক্লাসরুমে জেমিনি এবং সার্চ- এই টুলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকবে।গুগল এএফপিকে জানিয়েছে, নতুন এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়ে পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী চালু করা হবে, তবে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।এই পরিবর্তনের ফলে স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের এআই সুবিধা ছাড়া গুগল সার্চ ব্যবহারের সুযোগ দিতে পারবে না।গুগলের শিক্ষা বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস ফিলিপস ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’কে জানান, ‘সার্চ এবং এআই ওতপ্রোতভাবে জড়িত’, কারণ কোম্পানির সার্চ ইঞ্জিনের ভেতরেই এখন এআই ফিচারগুলো যুক্ত রয়েছে।তিনি বলেন, কোনো স্কুল যদি এআই নিষিদ্ধ করে, তবে শিক্ষার্থীরা ‘সার্চ ব্যবহারের সুযোগ পাবে না এবং তারা স্কুলের তরফ থেকে একটি বার্তা দেখতে পাবে যাতে বলা থাকবে যে সার্চ পাওয়া যাচ্ছে না।’নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী এক্স (সাবেক টুইটার)-এ গুগলকে অভিযুক্ত করে লিখেছেন, তারা ‘আমাদের সরকারি স্কুলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জোর করে চাপিয়ে দিতে তাদের একচেটিয়া ক্ষমতা ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।’তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমাদের শিশুদের কীভাবে শিক্ষা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠানের থাকা উচিত নয়।’গত মাসে সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এবং জোশ হওলির কোম্পানির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, বিশ্বব্যাপী ১৫ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী গুগল ক্লাসরুম ব্যবহার করে থাকে। স্কুল ডিভাইসগুলোতে কেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ফিচারগুলোকে ডিফল্ট বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু রাখা হয়েছিল, চিঠিতে মূলত সে প্রশ্নই তোলা হয়েছিল।গত আগস্টে গুগল সব বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের ক্লাসরুমে জেমিনি চ্যাটবট উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।সে সময় শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের শ্রেণি ও অ্যাসাইনমেন্ট-সংক্রান্ত কিছু প্রাথমিক প্রম্পট দেখানো হতো। এর মাধ্যমে তারা নির্দেশিত সহায়তা বা স্টাডি গাইড পেত। পাশাপাশি কোর্সের উপকরণ থেকে তৈরি অনুশীলন কুইজ ও ফ্ল্যাশকার্ডও পেত।যে সকল স্কুল ইতোপূর্বেই জেমিনি চালু করেছিল, সেগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু ছিল।স্কুল ডিভাইসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুলগুলোর ব্যবহার সীমিত করার পরিকল্পনার কথা গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক এবং লস অ্যাঞ্জেলেস- উভয় শহরই ঘোষণা করেছিল।লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘আমরা গুগলের এই ঘোষণা এবং স্কুল, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখছি।’মুখপাত্র জানান, ডিস্ট্রিক্ট বিশ্বাস করে যে এআই যদি সতর্কতার সঙ্গে এবং স্পষ্ট সুরক্ষা নিশ্চিত করে চালু করা হয়, তবে তা শিক্ষাদান ও শিখন প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে পারে। সেই সঙ্গে তিনি এমন নীতির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্রযুক্তি যেন শিক্ষকদের জায়গা দখল না করে বরং তাদের সহায়তা করে এবং শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা রক্ষা করে, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস (এনওয়াইসিপিএস) এই নীতিগত পরিবর্তন সম্পর্কে গুগলের কাছে আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বলে ডিস্ট্রিক্টের একজন মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন। তবে এনওয়াইসিপিতে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা ক্রোমবুকগুলোতে জেমিনি চ্যাটবট এবং এআই মোড ইতোমধ্যেই বন্ধ করা আছে।মুখপাত্র বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য গুগল সার্চ ফলাফলে যে এআই ওভারভিউ দেখানো হয়, তা নিষ্ক্রিয় করার জন্যও এনওয়াইসিপিএস গুগলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।’এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার গুগল জানায়, এই পরিবর্তনগুলো স্কুলগুলোকে ‘কম নয়, বরং আরও বেশি পছন্দ করার সুযোগ করে দিচ্ছে।’গুগল বলেছে, ‘আমরা জানি যে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় শর্টকাট নেওয়ার জন্য এআই ব্যবহার করছে কি না তা নিয়ে চিন্তা রয়েছে, আর স্কুলগুলো আমাদের আগেই জানিয়েছে যে তারা এর ওপর নিয়ন্ত্রণ চায়।’