তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সংশোধন ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এই বৈঠকে। একইসঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত করে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও মতামতও সরাসরি শোনা হয়।সভা শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিস্তারিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেও কী প্রক্রিয়ায় এই সরকার গঠন করা হবে, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কী হবে এবং নির্বাচনকালীন এই সরকারের মেয়াদ কত দিনের হবে— সেসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কী প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে, এর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কেমন হবে এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার কত দিনের মধ্যে এই সরকার গঠন করতে হবে— এসব বিষয় গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সার্চ বডি গঠন কিংবা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে যাতে পরবর্তীতে কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের সুযোগ না থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে আলোচনা চলছে।তিনি বলেন, সমস্ত প্রস্তাব ও পর্যালোচনা শেষে যখন জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হবে, তখন সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে আরও নতুন পরামর্শ ও প্রস্তাব যুক্ত হতে পারে।সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’-এর বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সনদে উল্লেখিত বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বৈঠকে র্যাঙ্কড চয়েস ভোটের প্রস্তাব নিয়ে কথা হলেও এ বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যদের বক্তব্য ছিল, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি সার্বিকভাবে সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। এর বাইরেও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য যেকোনো নতুন ভালো প্রস্তাব আসলে তা সহানুভূতির সাথে পরীক্ষা করে দেখা হবে।সংবিধান সংশোধন নিয়ে সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে প্রচুর প্রস্তাব পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের কাছ থেকে পাওয়া গঠনমূলক প্রস্তাবগুলো একত্র করে কমিটির পরবর্তী বৈঠকগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে। তবে সব প্রস্তাব পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় থাকায় এখনো কোনো শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী উপস্থিত থেকে তাদের জীবনের ট্র্যাজিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বিগত সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতন, দীর্ঘদিনের আইনি সুরক্ষা না পাওয়া এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার মর্মস্পর্শী বর্ণনা দেন। ভবিষ্যতে যাতে স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের মানবতাবিরোধী ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনোই না ঘটে, সে জন্য সংবিধানে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ও শক্তিশালী পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এই যৌথ পর্যালোচনা বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
দেশে বাকস্বাধীনতা হরণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘এখন পরিস্থিতি এমন তৈরি হচ্ছে আমাদের এই সরকারের আমলে, বিএনপি সরকারের আমলে, যে মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই। পকেটে টাকা নেই, মন খারাপ হয়েছে, এটাও আপনি বলতে পারবেন না। বললেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে।’ একই সঙ্গে তিনি ক্রসফায়ারের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) অবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন।বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর জিরো পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবরের সমাবেশ সফলে লিফলেট বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।উত্তর কোরিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থার তুলনা টেনে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ায় নিয়ম আছে, ভোট কাকে দেবেন? দাঁড়াবেন একজন, ভোট তাকেই দিতে হবে। ভোট দেওয়ার পরে এসে আবার হাততালি দিতে হবে এবং খুশি দেখাতে হবে। বলতে হবে, আমি অনেক খুশি।’ ঠিক একইভাবে দেশেও এখন সাধারণ মানুষের অসন্তোষ প্রকাশের পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।হাসনাত বলেন, এখন পরিস্থিতি এমন তৈরি হচ্ছে আমাদের এই সরকারের আমলে, বিএনপি সরকারের আমলে, যে মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই। পকেটে টাকা নেই, মন খারাপ হয়েছে, এটাও আপনি বলতে পারবেন না। বললেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে।সামাজিক মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘এই সরকার এই আট মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করা এবং নিজের মত প্রকাশের জন্য মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। অথচ তারেক রহমান নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, তিনি দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতাকে প্রমোট করেন। এটা মূলত ভোট আকর্ষণ করার, ভোট পাওয়ার একটি কৌশল ছিল। কিন্তু আজ তিনি প্রমাণ করে দিচ্ছেন, তার মতের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিলে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে মামলা দেওয়া হবে, জেলে ঢোকানো হবে। মামলা দিতে না পারলে আইজিপিকে দিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হবে।’আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে হাসনাত বলেন, ‘আমরা যখন এর প্রতিবাদ করব, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসে বলবেন, আইজিপি কিছু বোঝেন না, সরল মানুষ। সরল বিশ্বাসে ভুল করে কথা বলে ফেলেছেন। কয়েক দিন পর তিনি ভুলে আরেকজনকে হত্যা করে ফেলবেন। তখন আবার বলা হবে, আইজিপি বুঝতে পারেননি, সরল মানুষ ভুল করে হত্যা করে ফেলেছেন। এখন এই সরল বিশ্বাসের লোককে নিয়ে আমরা কী করব? এই সরল বিশ্বাসের আইজিপি তো আমরা চাইনি।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম এমন একটি পুলিশ বাহিনী, যারা জনগণের পুলিশ হবে, আইনের ধারক হবে এবং আইন বাস্তবায়ন করবে। আওয়ামী লীগের আমলে দীর্ঘ সময় পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্তও পুলিশকে ব্যবহার করে বাহিনীটির মনোবল ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমরা সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন চেয়েছিলাম। অথচ আজও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’বর্তমান পুলিশপ্রধানের পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এই আইজিপি এত দিন বিদেশে পালিয়ে ছিলেন। বিদেশ থেকে ফিরে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ তাকে আইজিপি হিসেবে বসিয়েছেন। এখানে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আছে। এই আইজিপিকে শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চান, অন্য কেউ চান না। কেউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লোক, কেউ প্রধানমন্ত্রীর লোক, কেউ আবার অন্য কারও লোক। বাংলাদেশের মানুষের লোক কেউ নন।’ তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সত্যিই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে থাকে, তাহলে নতুন করে ক্রসফায়ার চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, সেই দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য আইজিপিকে অপসারণ করতে হবে।’পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতির কঠোর সমালোচনা করে অধস্তন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘পুলিশের ভাইদের বলব, আর কত তেলবাজি করবেন? আপনাদের শিক্ষা হওয়া উচিত। দিন শেষে আপনারা কী পান? জুনিয়র অফিসার, কনস্টেবলরা কী পান? আপনাদের ব্যবহার করে কিছু কর্মকর্তা ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করেন। বেনজীর ও হারুনের মতো কর্মকর্তারা আপনাদের ব্যবহার করেছেন। রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে আপনাদেরই বিপদে পড়তে হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘কনস্টেবল, এসআই ও জুনিয়র অফিসাররা, আপনারা দেশ থেকে পালাতে পারবেন না। যারা আপনাদের ব্যবহার করছেন, তারা পালিয়ে যেতে পারেন। আমরা শুনতে পাচ্ছি, আলী হোসেন ফকির অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি কেনা শুরু করেছেন। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত। তাকে অনুসরণ করার দরকার নেই। আপনাদের চাকরি কোনো আইজিপির বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে না। আপনাদের দায়িত্ব আরও মহান। সংবিধান, বাংলাদেশের মাটি, মানুষ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আপনাদের কাজ।’রাজনৈতিক ত্যাগের অবমূল্যায়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি, আমাদের রক্তের দাম নেই। রক্তের দাম তাদের বেশি, যারা সংকটের সময় বিদেশে পালিয়ে থাকেন, সন্তানদের বিদেশে রাখেন। সংকট কেটে গেলে দেশে ফিরে এসে সন্তানদের নেতা বানিয়ে দেন।’ছাত্রদলের অতীত সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘রাজপথে শাকিলের মতো ছাত্রদলের নেতারা বছরের পর বছর জুলুম, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। তারা বাসায় ঘুমাতে পারেননি। তাদের লাশের মূল্য মাত্র ২০ লাখ টাকা। অথচ একজন সংসদ সদস্যের ছেলে গুলি করে মানুষ হত্যা করলে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটি দেখতে চাই। একজন সংসদ সদস্যের ছেলে মানুষ হত্যা করলে তার ওই পদে থাকার আর কোনো এখতিয়ার নেই। আমরা দেখতে চাই, তার বিচার কতটুকু হয়।’ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দীর্ঘ ১৭ বছর অনেক কষ্ট করেছেন। হলে থাকতে পারেননি, বাসায় যেতে পারেননি। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরাও ভয় পেয়ে আপনাদের এড়িয়ে চলেছেন। অথচ আজ আপনাদের মূল্যায়ন নেই। দিন শেষে মন্ত্রীদের গাড়ির পেছনে দৌড়াতে হয়। কিছুদিন পর দেখবেন, মন্ত্রীর ছেলের গাড়ির পেছনেও দৌড়াতে হচ্ছে। যাদের ছেলেরা কোনো দিন রাজপথে নামেননি, তাদের পরিবারের জন্য আপনারা জীবন ও যৌবন দিয়ে রাজনীতি করছেন। অনেক রাজনীতিবিদ নিজেদের সন্তান ও পরিবারকে বিদেশে নিরাপদে রাখেন। তাদের সন্তানরা বিদেশের নাগরিক হন। আর দেশের ছেলেদের দিয়ে রাজনীতি করিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হয়। একসময় সেই নেতার ছেলেই আরেকজন কর্মীকে গুলি করে হত্যা করে। দিন শেষে ২০ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি শেষ করার চেষ্টা হয়। এটাই আমাদের দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সংশোধন ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এই বৈঠকে। একইসঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত করে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও মতামতও সরাসরি শোনা হয়।সভা শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিস্তারিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেও কী প্রক্রিয়ায় এই সরকার গঠন করা হবে, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কী হবে এবং নির্বাচনকালীন এই সরকারের মেয়াদ কত দিনের হবে— সেসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কী প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে, এর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কেমন হবে এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার কত দিনের মধ্যে এই সরকার গঠন করতে হবে— এসব বিষয় গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সার্চ বডি গঠন কিংবা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে যাতে পরবর্তীতে কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের সুযোগ না থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে আলোচনা চলছে।তিনি বলেন, সমস্ত প্রস্তাব ও পর্যালোচনা শেষে যখন জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হবে, তখন সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে আরও নতুন পরামর্শ ও প্রস্তাব যুক্ত হতে পারে।সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’-এর বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সনদে উল্লেখিত বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বৈঠকে র্যাঙ্কড চয়েস ভোটের প্রস্তাব নিয়ে কথা হলেও এ বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যদের বক্তব্য ছিল, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি সার্বিকভাবে সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। এর বাইরেও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য যেকোনো নতুন ভালো প্রস্তাব আসলে তা সহানুভূতির সাথে পরীক্ষা করে দেখা হবে।সংবিধান সংশোধন নিয়ে সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে প্রচুর প্রস্তাব পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের কাছ থেকে পাওয়া গঠনমূলক প্রস্তাবগুলো একত্র করে কমিটির পরবর্তী বৈঠকগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে। তবে সব প্রস্তাব পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় থাকায় এখনো কোনো শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী উপস্থিত থেকে তাদের জীবনের ট্র্যাজিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বিগত সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতন, দীর্ঘদিনের আইনি সুরক্ষা না পাওয়া এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার মর্মস্পর্শী বর্ণনা দেন। ভবিষ্যতে যাতে স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের মানবতাবিরোধী ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনোই না ঘটে, সে জন্য সংবিধানে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ও শক্তিশালী পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এই যৌথ পর্যালোচনা বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের। এমন ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং করবে বাংলাদেশ। একাদশেও বড় চমক দিয়েছে টাইগাররা।আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসন শান্ত।ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চমক একাদশে। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম নেই একাদশে৷ তার পরিবর্তে জায়গা পেয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। এর বাইরে একাদশে আর কোনো পরিবর্তন নেই।বাংলাদেশের একাদশনাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, লিটন কুমার দাস, তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম।
বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের নতুন সিনেমা ‘মাতৃভূমি’র মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সরকারি ছাড়পত্র মেলার খবর মিললেও এখনো সিবিএফসির পক্ষ থেকে প্রদর্শনীর তারিখ মেলেনি। ফলে আগামী ১৩ নভেম্বর সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আনা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের ভারত ও চীন সংঘঘাতের পটভূমিতে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি। শুরুতে এর নাম ছিল ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’। চলতি বছরের শুরুতে তা বদলে রাখা হয় ‘মাতৃভূমি’। চীন সংক্রান্ত বিষয়বস্তু এবং সংলাপের কারণে সিনেমাটিকে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। এর পেছনে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।সম্প্রতি সিনেমাটি সরকারি ছাড়পত্র পাওয়ার খবর সামনে আসে। কিন্তু প্রায় এক মাস হতে চললেও সেন্সর সনদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রদর্শনীর তারিখ পাননি নির্মাতারা।বলিউড হাঙ্গামার একটি বাণিজ্যিক সূত্র জানায়, অক্টোবরের শুরুতে সেন্সর সনদের আবেদন করেন নির্মাতারা। গত ২৬ অক্টোবর সোমবার সিনেমাটি প্রদর্শনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। সেন্সর প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সালমান নিজে কয়েকবার দিল্লি গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।সূত্রটির ভাষ্য, কোনো বিশেষ সুবিধা চাননি সালমান। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি সনদের সব নিয়ম পালন করেছেন তিনি। আগামী মাসেই সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আনতে চান বলেই সেন্সর কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিচ্ছেন।১৩ নভেম্বর মুক্তির বিষয়ে সালমানের আগের পরিকল্পনা এখনো অপরিবর্তিত আছে কি না, জানতে চাওয়া হলে সূত্রটি জানিয়েছে, সময়মতো সেন্সর সনদ পেলে ওই দিনই সিনেমাটি মুক্তি পাবে।এই তারিখ বেছে নেওয়ার কারণও পরিষ্কার করেছে সূত্রটি। একই সময়ে বড় সিনেমা মুক্তি পেলে একে অন্যের ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে, যা চান না সালমান। ওই নির্দিষ্ট দিনে অন্য কোনো সিনেমা মুক্তির পরিকল্পনা নেই। তাই দিনটিকে উপযুক্ত মনে করছেন তিনি।এদিকে ২৭ নভেম্বর রাজশ্রী প্রোডাকশনসের ‘ইয়ে প্রেম মল লিয়া’ এবং ইমরান হাশমি অভিনীত ‘গানমাস্টার জি৯’ মুক্তির কথা রয়েছে। এই দুই ছবির দুই সপ্তাহ আগে নিজের ছবি এনে বক্স অফিসে তিনটির জন্যই ভালো ব্যবসার সুযোগ রাখতে চান সালমান। এই কারণে ২০ নভেম্বর মুক্তির সম্ভাবনা বাতিল করা হয়েছে।‘ইয়ে প্রেম মল লিয়া’ পরিচালনা করছেন সুরজ বরজাতিয়া। পরিচালকের সঙ্গে সালমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় ওই ছবির সঙ্গে নিজের ছবি মুক্তি দিতে নারাজ অভিনেতা।এছাড়া ৪ ডিসেম্বর মুক্তির তারিখও ভাবা হয়েছিল। কিন্তু ‘মাতৃভূমি’র পরিবেশক জিও স্টুডিওস একই দিনে শ্রদ্ধা কাপুর অভিনীত ‘ঈথা’ মুক্তির পরিকল্পনা করছে। একই দিনে দুটি ছবি মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হলে সালমানও তা মেনে নেন।সব মিলিয়ে ১৩ নভেম্বরকেই সবচেয়ে উপযুক্ত দিন হিসেবে দেখছেন নির্মাতারা। তবে শেষ পর্যন্ত ওই দিনে সিনেমাটি মুক্তি পাবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র হাতে পাওয়ার ওপর।সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা
দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের দাম সর্বোচ্চ বাড়ানো হয়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা।বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সোনার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ দাম ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা।এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৬৭৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩৯১ টাকা।
১৬ ঘন্টা আগে
বিপদ-আপদ কখন আসবে, তা কেউ জানে না। কখনও কোনো ক্ষতির আশংকা দেখা দিলে কিংবা অপ্রত্যাশিত বিপদের ভয় হলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া মুমিনের শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (স.) বিপদের আশংকায় বিশেষ দোয়া পড়তেন। এ ছাড়া সকাল-সন্ধ্যায় সুরক্ষার জন্যও দোয়া পড়ার শিক্ষা দিয়েছেন।১. কারও অনিষ্টের আশংকা হলে পড়বেন اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْউচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাঊযু বিকা মিন শুরুরিহিম।অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা তাদের মোকাবিলায় তোমাকেই সামনে রাখছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, কোনো সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ক্ষতির আশংকা করলে রাসুলুল্লাহ (স.) এই দোয়া পড়তেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৭)২. সকাল-সন্ধ্যায় সুরক্ষার দোয়াبِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُউচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাযি লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামায়ি, ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামের সঙ্গে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকালে ও সন্ধায় যে বান্দা তিনবার এ দোয়া পাঠ করবে কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না। (জামে তিরমিজি: ৩৩৮৮)৩. আল্লাহর ওপর ভরসা প্রকাশের দোয়াحَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُউচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি‘মাল ওয়াকিল।অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।সুরা আলে ইমরানের ১৭৩ নম্বর আয়াতে এই বাক্য উল্লেখ রয়েছে। সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপের সময় তিনি এই বাক্য বলেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সময়েও শত্রুর বড় বাহিনীর হুমকির মুখে সাহাবিরা তা বলেছিলেন। (সহিহ বুখারি: ৪৫৬৩)দোয়ার পাশাপাশি সতর্কতাও জরুরিবিপদের আশংকা হলে আল্লাহর কাছে দোয়া করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারও কাছ থেকে ক্ষতির আশংকা থাকলে নিরাপদ স্থানে যাওয়া, বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে জানানো এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া জরুরি। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে যথাসাধ্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।তথ্যসূত্র: সুরা আলে ইমরান: ১৭৩; সহিহ বুখারি: ৪৫৬৩; সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৭, ৫০৮৮; জামে আত-তিরমিজি: ৩৩৮৮
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় মিষ্টি খাবারগুলোর মধ্যে চকলেট অন্যতম। শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক- অনেকেরই পছন্দের তালিকায় রয়েছে এই খাবার। চকলেটের প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে উদযাপন করতে প্রতিবছর ২৮ অক্টোবর পালন করা হয় জাতীয় চকলেট দিবস (ন্যাশনাল চকোলেট ডে)।চকলেটের নানা ধরন ও স্বাদ থাকলেও এই দিনটি সব ধরনের চকোলেটের জন্যই উৎসর্গ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কনফেকশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে দিবসটি পরিচিতি পেয়েছে।চকলেট তৈরি হয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে জন্মানো ক্যাকাও গাছের বীজ থেকে। মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে এ গাছের উৎপত্তি ও চাষের ইতিহাস রয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ১১০০ সাল থেকেই ক্যাকাও বীজের চাষের প্রমাণ পাওয়া যায়।ক্যাকাও বীজ থেকে চকলেট তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে বীজ গাঁজন করা হয়, যাতে এর স্বাদ ও সুগন্ধ তৈরি হয়। এরপর বীজ শুকিয়ে পরিষ্কার করে ভাজা হয়। খোসা ছাড়ানোর পর পাওয়া যায় ক্যাকাও নিবস, যা গুঁড়া করে তৈরি করা হয় চকলেটের মূল উপাদান। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী চিনি, দুধ ও অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হয় বিভিন্ন ধরনের চকলেট।চকলেটের পাঁচটি জনপ্রিয় ধরন১. আনসুইটেনড বেকিং চকলেট: এতে মূলত ক্যাকাও সলিডস ও ক্যাকাও বাটার থাকে। সাধারণত বেকিং ও রান্নায় ব্যবহার করা হয়।২. সুইট চকলেট: ক্যাকাও সলিডস, ক্যাকাও বাটার বা অন্য চর্বি এবং চিনি দিয়ে তৈরি হয় এই চকলেট।৩. মিল্ক চকলেট: এতে চকলেটের মূল উপাদানের সঙ্গে গুঁড়া দুধ বা ঘন দুধ মেশানো হয়। স্বাদে এটি সাধারণত মিষ্টি ও মসৃণ।৪. হোয়াইট চকলেট: ক্যাকাও বাটার, চিনি ও দুধ দিয়ে তৈরি হলেও এতে ক্যাকাও সলিডস থাকে না।৫. রুবি চকলেট: বিশেষ ধরনের ক্যাকাও বীজ থেকে তৈরি গোলাপি আভাযুক্ত এই চকলেটের স্বাদে মিষ্টির পাশাপাশি ফলের মতো সুগন্ধ ও হালকা টকভাব রয়েছে।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর বড় একটি অংশ এই প্রস্তাবের আওতায় আসতে পারে। গত সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।মাইক্রোসফটের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য পরিচালন ব্যয় কমানো এবং এআই প্রযুক্তি ও অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা। বর্তমানে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই উন্নয়নে ডাটা সেন্টার, উন্নত চিপ ও কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, মাইক্রোসফটের বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার এই প্রস্তাব পেতে পারেন। তাদের মধ্যে এআই এক্সপেরিয়েন্সেস, কোপাইলট, অর্থ, মানবসম্পদ, এক্সবক্স এবং উইন্ডোজ প্লাস ডিভাইসেস বিভাগের কর্মীরাও রয়েছেন। তবে বিপণন, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীরা এই কর্মসূচির আওতায় থাকবেন না।মাইক্রোসফটের চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় বলেন, যারা প্রতিষ্ঠানটির বাইরে নতুন কিছু করার কথা ভাবছেন, তাদের কর্মজীবনের পরবর্তী ধাপে যেতে এই প্রস্তাব সহায়তা করবে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত ব্যবসায়িক চাহিদার সঙ্গে কর্মীসংখ্যা সমন্বয়ের সুযোগ পাবে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগ।মাইক্রোসফটের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার। সেই হিসাবে ৬০ হাজার কর্মীকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলে তা কর্মীবাহিনীর একটি বড় অংশকে প্রভাবিত করতে পারে।এদিকে, এআই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাইক্রোসফট চলতি বছরের জন্য মূলধনি ব্যয় বাবদ ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। বিপুল এই বিনিয়োগের বিপরীতে পর্যাপ্ত আর্থিক মুনাফা আসবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।চলতি বছরেও কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। জুলাইয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণাও দেয় মাইক্রোসফট। এর অংশ হিসেবে এক্সবক্স গেমিং ব্যবসা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।আজ বুধবার বাজার লেনদেন শেষ হওয়ার পর চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এর আগে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের নজরে এসেছে