পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।আদেশে বলা হয়, অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।তবে কী কারণে তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে আদেশে কিছু বলা হয়নি।এর আগে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে মাদক সেবনসহ মাদকের কারবার পরিচালিত হয়—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন একটি আবাসিক এলাকার ওই বাড়িতে (পুলিশ হাউজিং-১) অভিযান চালায় গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের একটি দল। অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও নারীসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাকের পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ফলে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন ২৭ জন এবং প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা ২৩ জন।ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন আহমেদ আযম খান।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে ইশরাক হোসেন তার লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী, পদত্যাগপত্রটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।এর আগে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে প্রকাশ্যে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক হোসেন। ওই অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।এ ঘটনার পর রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাকে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরদিন সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, আত্মরক্ষার স্বার্থেই সাময়িকভাবে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি বলেও দাবি করেন। তবে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সাধারণ দলীয় কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘রাজশাহীতে পদ্মা নদী আছে। আমরা দেখেছি কীভাবে পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই জন্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাংলাদেশের দুটি বড় নদীর একটি হচ্ছে তিস্তা, আরেকটি হচ্ছে রাজশাহীতে পদ্মা নদী। এই দুটি নদীতে আমরা ব্যারাজ তৈরি করব। যাতে করে আমাদের পানির সমস্যা আমরা দূর করতে পারি।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদের যেতে হয় আমরা চেষ্টা করব। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব। আমরা এই পদ্মা ব্যারাজ এবং তিস্তা ব্যারাজের কাজ শুরু করব এবং শেষও করব ইনশাআল্লাহ।’তারেক রহমান বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ৪ হাজারের কাছাকাছি আখচাষি ভাইদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছি। যাতে করে আগামী সিজনে আখ চাষিদের কিছুটা হলেও কষ্ট কম হয়। বিএনপি বিশ্বাস করে এই দেশের কৃষক বাঁচলে এই দেশের কৃষি বাঁচবে।’তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হয়েছে। বিএনপির অনেকগুলোর পরিকল্পনা বা অনেকগুলো প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটি ছিল কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে সেই কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করবে বলেছিল। সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছিলাম। সমগ্র বাংলাদেশের ১৩ লাখ কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আমরা মওকুফ করে দিয়েছিলাম সুদসহ।’
সম্প্রতি ইউরো নেসনস লিগ চলাকালে কোচের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তি পাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সিআরসেভেনকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা) করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)।সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল এ তথ্য জানায়।ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল জানিয়েছে— রোনালদো ইচ্ছাকৃতভাবে ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধি ভেঙেছেন। যদিও ফেডারেশনের বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, এই নিষেধাজ্ঞা কোন কোন ম্যাচ বা কার্যক্রমের ওপর প্রযোজ্য হবে। এমনকি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার অধীনে এরইমধ্যে পার করা সময়টুকু এই ৩০ দিনের শাস্তির হিসাব থেকে বাদ যাবে কি না, এমন কিছুও বিস্তারিত জানায়নি।চলতি মাসের শুরুর দিকে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকেন রোনালদো। পরে পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুস তার ভূমিকা নিয়ে দুবার কথা দিয়েও তা রাখেননি— এমন অভিযোগ তুলে ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচের আগেই তিনি কোপেনহেগেনে পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান।অবশ্য ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে পরে দুঃখ প্রকাশ করেন রোনালদ। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো এবং সতীর্থদের সঙ্গে না থেকে চলে যাওয়ার জন্য ক্ষমা চান তিনি। একই সঙ্গে জানান, এ ঘটনায় যে শাস্তিই আসুক, তা মেনে নিয়ে আবারও জাতীয় দলে ফিরতে প্রস্তুত তিনি।এফপিএফ সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা জানিয়েছেন, বিষয়টির নিষ্পত্তি হলে ফেডারেশনের সবাই রোনালদোকে আবার জাতীয় দলে দেখতে চান।আগামী ১৫ নভেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল।
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশনে পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন ভাড়াটে হামলাকারী এবং অপরজন তাদের পালাতে সহায়তা করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হরিয়ানার সোনিপাতের ১৭ বছর বয়সী ফুল সিং, বিহারের বেগুসরাইয়ের ২২ বছর বয়সী হৃতিক কুমার ওরফে রোশন এবং সোনিপাতের ১৮ বছর বয়সী রেহান। হৃতিক মুম্বাইয়ের আন্ধেরি ওয়েস্ট এলাকায় বসবাস করেন এবং র্যাপিডো চালক হিসেবে কাজ করেন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজস্থান অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্কফোর্স (এজিটিএফ) ও কোটা সিটি পুলিশের যৌথ দল তাদের গ্রেপ্তার করে। মুম্বাই পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তাদের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, হামলার পর অভিযুক্তরা মহারাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে গুজরাটে প্রবেশ করেছিলেন বলে প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে। পরে পুলিশের নজর এড়াতে ট্রেনে করে পালানোর চেষ্টা করেন তারা।তদন্তকারীদের ধারণা, হামলার আগে থেকেই টাইগার শ্রফের চলাফেরার ওপর নজর রাখছিলেন অভিযুক্তরা। অভিনেতার নিয়মিত যাতায়াতের স্থান ও সময় সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পর হামলার পরিকল্পনা করা হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি রোববার মুম্বাইয়ের জুহু এলাকার একটি ফুটবল মাঠে যেতেন টাইগার শ্রফ। সেখান থেকে গাড়িতে করে ফেরার সময় তাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে ধারণা তদন্তকারীদের।রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে টাইগার শ্রফ অক্ষত থাকলেও তার গাড়িচালক ও অন্য একজন আহত হন।হামলার পর অভিযুক্তরা এসভি রোড ধরে ভিলে পার্লে ও আন্ধেরির দিকে পালিয়ে যান বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পরে আন্ধেরি ওয়েস্ট রেলস্টেশনের কাছে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে ট্রেনে ওঠেন তারা।এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পোস্টটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় টাইগার শ্রফের বাসায় গিয়ে তার খোঁজখবর নেন। অভিনেতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন তিনি।শিন্ডে বলেন, মুম্বাইয়ে গ্যাং-সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অপরাধী চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৯০-এর দশকে গ্যাং-সংঘাতের সময় যেভাবে এসব চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, আবারও তেমন পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।হামলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শিন্ডে বলেন, এর জবাব দেওয়া হবে পাল্টা জবাবে গুলির জবাব গুলিতে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকছে দেশের ব্যাংক ও শেয়ারবাজার। পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত এ বিরতি চলবে। ছুটি শেষে আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংকিং কার্যক্রম।তবে এ সময়ে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা চালু থাকবে। ব্যাংক বন্ধ থাকলেও এটিএম বুথ থেকে নগদ টাকা উত্তোলনসহ নির্ধারিত কিছু সেবা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলোতে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে।দুর্গাপূজার ছুটির মধ্যেও দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে এ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে স্থানীয় প্রশাসন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এদিকে, ব্যাংক বন্ধ থাকায় দেশের দুই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এ সময়ে কোনো লেনদেন হবে না। ছুটি শেষে আগামী রোববার থেকে দুই বাজারে নিয়মিত লেনদেন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ: ছুটির সময়ে নগদ টাকার প্রয়োজন হলে এটিএম বুথ ব্যবহার করা যাবে। তবে শাখাভিত্তিক ও অন্যান্য ব্যাংকিং সেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্ধারিত সময়সূচি ও নির্দেশনা জেনে নেওয়া ভালো।
১৬ ঘন্টা আগে
বাবা-মা সন্তানের জীবনে অত্যন্ত সম্মানিত। তাঁদের প্রতি সদাচরণ করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। তবে বাবা-মাও মানুষ, তাঁদেরও ভুল হতে পারে। কখনো তাঁরা নামাজে অবহেলা করেন, কখনো অন্যের প্রতি অন্যায় করেন, আবার কখনো পারিবারিক বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেন। এমন পরিস্থিতিতে সন্তান কি চুপ থাকবে, নাকি ভুল ধরিয়ে দেবে? ধরিয়ে দিলে কীভাবে বলবে?ইসলাম বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি অন্যায় থেকে সতর্ক করার শিক্ষা দেয়। তাই তাঁদের ভুল দেখলে অপমান না করে, প্রজ্ঞা ও সদাচরণের সঙ্গে সংশোধনের চেষ্টা করা সন্তানের দায়িত্ব।সম্মান বজায় রেখেই ভুল ধরিয়ে দিতে হবেআল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করতে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে। তাঁদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাঁদের উফ বলো না এবং তাঁদের ধমক দিয়ো না। তাঁদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো।’ (সুরা ইসরা: ২৩)বাবা-মায়ের কোনো ভুল চোখে পড়লেও গালমন্দ করা, অপমান করা কিংবা রাগের মাথায় কটু কথা বলা যাবে না। ভুল বুঝিয়ে বলার সময়ও ভাষা ও আচরণ হতে হবে শালীন।ইবরাহিম (আ.)-এর দৃষ্টান্তবাবাকে ভুল বোঝানোর ক্ষেত্রে নবী ইবরাহিম (আ.)-এর আচরণ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। তাঁর বাবা মূর্তিপূজায় লিপ্ত ছিলেন। ইবরাহিম (আ.) তাঁকে সেই ভুল থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সম্বোধনে সম্মান বজায় রেখেছেন।তিনি বলেছিলেন, ‘হে আমার পিতা, আপনি কেন এমন কিছুর ইবাদত করেন, যা শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো উপকারে আসে না? হে আমার পিতা, আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে, যা আপনার কাছে আসেনি। অতএব আমার অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে সঠিক পথ দেখাব।’ (সুরা মরিয়ম: ৪২-৪৩)বাবা তাঁকে কঠোর ভাষায় হুমকি দিলেও ইবরাহিম (আ.) বলেছিলেন, ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি আমার রবের কাছে আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব।’ (সুরা মরিয়ম: ৪৭)এই ঘটনা শেখায়, সত্য কথা বলার সময়ও সম্বোধন ও ভাষায় সংযম রাখা জরুরি।ভুল ধরিয়ে দেওয়ার সঠিক পদ্ধতিবাবা-মাকে কিছু বলার আগে নিশ্চিত হতে হবে, বিষয়টি সত্যিই অন্যায় কি না। কোনো সিদ্ধান্ত নিজের অপছন্দের হলেই সেটি অন্যায় হয়ে যায় না। ধর্মীয় বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহর দলিল যাচাই করা জরুরি। আলেমদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য মতভেদ থাকলে নিজের পছন্দের মতটিকে একমাত্র সঠিক বলে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। শোনা কথা বা কুধারণার ভিত্তিতেও কাউকে অভিযুক্ত করা যাবে না। (দ্র: সুরা হুজুরাত: ১২)সম্ভব হলে অন্যদের সামনে ভুল ধরিয়ে না দিয়ে একান্তে, শান্ত সময়ে কথা বলা ভালো। ‘আপনি সব সময় ভুল করেন’ এভাবে না বলে নির্দিষ্ট বিষয়টি বুঝিয়ে বলা যেতে পারে। যেমন, ‘আমি বিষয়টি এভাবে জেনেছি, আপনি কি একটু যাচাই করে দেখবেন?’ ধর্মীয় বিষয়ে প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য আলেমের বক্তব্য বা প্রামাণ্য বইয়ের সাহায্য নেওয়া যায়।আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করো প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।’ (সুরা নাহল: ১২৫) আল্লাহ তাআলা মুসা ও হারুন (আ.)-কেও ফেরাউনের কাছে কোমল ভাষায় কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। (সুরা তাহা: ৪৩-৪৪) বাবা-মাকে নসিহত করার সময় এই শিক্ষা মনে রাখা দরকার।নিজের আচরণেও ভালো দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে। সন্তান নিজেই যদি রূঢ় আচরণ করে, দায়িত্বে অবহেলা করে বা অন্যের অধিকার নষ্ট করে, তাহলে তার উপদেশের মূল্য কমে যেতে পারে।অন্যায় নির্দেশে আনুগত্য নয়, সদাচরণ আছেবাবা-মা গুনাহের কাজে নির্দেশ দিলে তা পালন করা যাবে না। তবে তাঁদের নির্দেশ অমান্য করার সময়ও সদাচরণ বজায় রাখতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা যদি তোমাকে আমার সঙ্গে এমন কিছুকে শরিক করতে চাপ দেয়, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না। তবে দুনিয়ায় তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস করো।’ (সুরা লুকমান: ১৫)রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘পাপের কাজে কোনো আনুগত্য নেই। আনুগত্য সৎকাজেই।’ (সহিহ বুখারি: ৭২৫৭)অতএব, বাবা-মা কাউকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করতে কিংবা কারও প্রতি জুলুম করতে বললে সেই নির্দেশ মানা যাবে না। তবে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা বা সম্পর্ক ছিন্ন করাও সমাধান নয়।সন্তানের দায়িত্ব কতটুকু?আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ও নিজেদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম: ৬) এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, নিজের দ্বীন মেনে চলার পাশাপাশি সাধ্যমতো পরিবারকে ভালো কাজে উৎসাহিত করাও দায়িত্বের অংশ।তবে কাউকে সৎপথে আনার চেষ্টা করা আর হেদায়াত দেওয়া এক বিষয় নয়। হেদায়াত দেয়ার মালিক একজন। সে বিষয়টি উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (স.)-কে বলেছেন, ‘আপনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না; আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দেন।’ (সুরা কাসাস: ৫৬) তাই সন্তান ভালো পরামর্শ দেবে, নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করবে এবং বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করবে। তাঁরা ভালো কথা গ্রহণ না করলে হতাশ হয়ে যাওয়া উচিত নয়।রাসুলুল্লাহ (স.) অন্যায় দেখলে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিরোধ করতে বলেছেন; সক্ষম হলে হাত দিয়ে প্রতিরোধের কথা এসেছে হাদিসে। (সহিহ মুসলিম: ৪৯)তবে এই হাদিসের অর্থ বাবা-মায়ের ওপর জোর খাটানো বা তাঁদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো নয়। অন্যায় প্রতিরোধের পদ্ধতি নির্ধারণে জ্ঞান, সামর্থ্য এবং সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করতে হয়। কোনো পদক্ষেপে আরও বড় অন্যায় বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে পদ্ধতি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। ইমাম নববি (রহ.) তাঁর শরহ মুসলিমে অন্যায় প্রতিরোধবিষয়ক হাদিসের ব্যাখ্যায় এ ধরনের বিবেচনার গুরুত্ব আলোচনা করেছেন।বোঝানোর পরও কাজ না হলে কী করবেন?বারবার বোঝানোর পরও বাবা-মা ভুল থেকে ফিরে না এলে একই কথা যখন তখন বলে বিরক্তি তৈরি না করে কিছুদিন বিরতি দেওয়া যেতে পারে। পরে সুযোগ বুঝে শান্ত পরিবেশে আবার নম্রভাবে কথা বলুন। পরিবারের এমন কোনো বিচক্ষণ আত্মীয় বা বিশ্বস্ত আলেমের সাহায্য নিন, যাঁর কথা তাঁরা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন। তাঁদের হেদায়াতের জন্য দোয়া করুন এবং সেবা ও সদাচরণ বজায় রাখুন।বাবা-মা রাগ করে গালমন্দ করলে চুপ থাকা বা সেখান থেকে সরে যাওয়া ভালো। নিজের উত্তেজনার কারণে কটু কথা বলে ফেললে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া উচিত।বাবা-মায়ের সঙ্গে স্ত্রীর বিরোধ বা দুর্ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে হবে। স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার রক্ষা করতে হবে, তবে বাবা-মাকে অপমান না করে শান্তভাবে সমাধান খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে আগের মতো একই পরামর্শ বারবার না দিয়ে নিরপেক্ষ ও বিচক্ষণ কারও সহায়তায় বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করা যায়।তবে গুরুতর নির্যাতন, নিরাপত্তার ঝুঁকি বা অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঘটনা ঘটলে শুধু পারিবারিক সম্মানের কথা ভেবে চুপ থাকা ঠিক নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশ্বস্ত ব্যক্তি, যোগ্য আলেম কিংবা আইনসম্মত সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।বাবা-মায়ের গুনাহের দায় কি সন্তানের ওপর পড়ে?না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।’ (সুরা আনআম: ১৬৪; সুরা ফাতির: ১৮) প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের আমলের জন্য জবাবদিহি করবে। তবে বাবা-মায়ের আচরণের কারণে সন্তানের জীবনে পারিবারিক ও মানসিক প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিজের আমল ঠিক রাখার পাশাপাশি সম্ভব হলে পরিবারে ভালো পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা উচিত।
দেশের মোটরসাইকেল বাজারে অ্যাডভেঞ্চার রাইডিংয়ের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে সুজুকির V-Strom মোটরসাইকেলের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে ম্যাবস ইউনিয়ন মোটর্স লিমিটেডের মিরপুর শোরুমে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রানকন মোটর বাইকস লিমিটেডের প্রতিনিধিবৃন্দ, শোরুম কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুজুকির সম্মানিত গ্রাহক ও মোটরসাইকেলপ্রেমীরা।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া সরনির ব্যাবসায়ী সমতির সভাপতি ও পরিচালক বৃন্দ এবং সেই সাথে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তাগণ।আকর্ষণীয় ডিজাইন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং অ্যাডভেঞ্চার রাইডিংয়ের উপযোগী বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে সুজুকি V-Strom রাইডারদের জন্য নিয়ে এসেছে নতুন অভিজ্ঞতার সম্ভাবনা।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গ্রাহকদের উন্নত মানের মোটরসাইকেল ও মানসম্মত বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে সুজুকি বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। V-Strom-এর এই উদ্বোধন স্থানীয় মোটরসাইকেল বাজারে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং অ্যাডভেঞ্চার রাইডিংয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বাইকটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচনকে কেন্দ্র করে শোরুমে উপস্থিত অতিথি ও গ্রাহকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সুজুকি V-Strom, অ্যাডভেঞ্চারের পথে নতুন যাত্রা।
২০৫০ সালের মধ্যে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।সোমবার ২৬ জানুয়ারি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার সাসটেইনেবিলিটি’-তে এই গবেষণাটি প্রকাশ হয়।ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চরম তাপপ্রবাহে আক্রান্ত বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। শিল্প-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বিশ্বের ৪১ শতাংশ মানুষ (প্রায় ৩৭৯ কোটি) অসহনীয় তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করবে। ২০১০ সালে এই পরিস্থিতির শিকার জনগোষ্ঠীর হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫৪ কোটি)।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল তৈরি করছে অপরাধীরা। ভুয়া অনলাইন দোকানের ওয়েবসাইট, পরিচিত মানুষের নকল কণ্ঠস্বর এবং বাস্তবের মতো দেখতে ভিডিও তৈরি করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে নতুন করে নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই ব্যবহার করে অল্প সময়ে পেশাদার চেহারার ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এসব সাইটে কখনো যুক্তরাজ্যের পারিবারিক ব্যবসার পরিচয় দিয়ে দেশটিতে তৈরি উন্নত মানের পণ্য বিক্রির দাবি করা হয়। ওয়েবসাইটে যুক্তরাজ্যের রাস্তা কিংবা দেশটির পতাকাসহ ছবিও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ক্রেতারা পণ্য অর্ডার করার পর তা আর পান না। কখনো আবার নিম্নমানের গণহারে উৎপাদিত পণ্য পাঠানো হয়।ন্যাশনাল ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস প্রথমবারের মতো এআই ব্যবহার করে করা প্রতারণার কৌশলগুলো নিয়ে একটি সতর্কতামূলক তালিকা প্রকাশ করেছে।এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি ছাড়াও প্রতারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে কণ্ঠস্বর নকল করার প্রযুক্তি এবং ডিপফেক ভিডিও। ডিপফেক হলো এআই দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তিত এমন ভিডিও, যেখানে কাউকে এমন কিছু বলতে বা করতে দেখা যায়, যা বাস্তবে ঘটেনি।প্রতারণার আরেকটি কৌশল হলো অনলাইনে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। এ ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য মনে রাখা এবং কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া পরিচিত আত্মীয় বা বন্ধুর কণ্ঠস্বর নকল করে জরুরি প্রয়োজনে অর্থ চাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।এআই ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তির জন্য আলাদা করে তৈরি করা যায় প্রতারণামূলক ই-মেইল, খুদে বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট। এসব বার্তায় বানান বা ব্যাকরণগত ভুল না থাকায় প্রতারণা শনাক্ত করাও কঠিন হচ্ছে। ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘হুইচ’ বলছে, শুধু বানান বা ব্যাকরণগত ভুল খুঁজে এখন প্রতারণামূলক বার্তা চেনা যায় না।প্রতারণা থেকে বাঁচবেন যেভাবেন্যাশনাল ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডসের পরামর্শ, সরাসরি দেখা হয়নি— এমন কাউকে টাকা, উপহারের কার্ড কিংবা ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য দেওয়া উচিত নয়। অনলাইন দোকানের ঠিকানা বাস্তব কি না তা যাচাই করতে হবে। চাকরির বিজ্ঞাপন সত্যি কি না তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া ভালো। শুধু পরিচিত কণ্ঠস্বর শোনা বা ভিডিও কলে কাউকে দেখেই তার পরিচয় নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কেউ দ্রুত টাকা পাঠাতে বা জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দিলে সতর্ক হতে হবে। কারণ প্রতারকেরা সাধারণত ভুক্তভোগীকে চিন্তা করার সময় না দিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে চায়।কোনো অর্থ পরিশোধ, ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার বা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আগে থামুন, যাচাই করুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন - এটাই বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শ।