স্মার্টফোনে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ করার সময় হঠাৎ ফুল-স্ক্রিন বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠা কিংবা কোনো অ্যাপ চালু না করলেও অচেনা ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন পণ্যের প্রচার দেখা দেওয়া বেশ বিরক্তিকর। অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের অনেকেই এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। এতে স্বাভাবিকভাবে ফোন ব্যবহার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।সাধারণত সন্দেহজনক অ্যাপ, ব্রাউজারের নোটিফিকেশন অনুমতি কিংবা অ্যাডওয়্যারের কারণে ফোনে অনাকাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপন দেখা দিতে পারে। তবে ফোনে বিজ্ঞাপন আসা মানেই সেটি ভাইরাসে আক্রান্ত, এমনটা ভাবার কারণ নেই। বিজ্ঞাপনের উৎস চিহ্নিত করতে পারলে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপেই সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।জেনে নেওয়া যাক ফোনে অযাচিত বিজ্ঞাপন কমানোর পাঁচটি উপায়।সন্দেহজনক অ্যাপ মুছে ফেলুননতুন কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার পর থেকে বিজ্ঞাপনের পরিমাণ বেড়ে গেলে অ্যাপটি সন্দেহের তালিকায় রাখুন। বিশেষ করে অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপ, ক্লিনার, লঞ্চার কিংবা বিনা মূল্যের বিভিন্ন টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।ফোনের সেটিংস থেকে ইনস্টল করা অ্যাপগুলোর তালিকা খুলুন। সম্প্রতি যুক্ত হওয়া অ্যাপগুলোর মধ্যে অস্বাভাবিক বা অপ্রয়োজনীয় কিছু চোখে পড়লে সেটি আনইনস্টল করুন। এরপর ফোনটি রিস্টার্ট করে দেখুন বিজ্ঞাপন আসার সমস্যা কমেছে কি না।বিজ্ঞাপন পাঠানো অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করুনসব বিজ্ঞাপন সরাসরি স্ক্রিনে পপ-আপ হিসেবে আসে না। অনেক অ্যাপ নোটিফিকেশনের মাধ্যমেও বিভিন্ন অফার ও প্রচারণামূলক বার্তা পাঠায়। কোনো ওয়েবসাইটকে ব্রাউজারে নোটিফিকেশন পাঠানোর অনুমতি দিলেও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে।এ ধরনের বার্তা এলে নোটিফিকেশনটির ওপর কিছুক্ষণ চেপে ধরুন। এতে সাধারণত কোন অ্যাপ থেকে সেটি এসেছে, তা জানা যায়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ওই অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিন। ব্রাউজারের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন এলে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের নোটিফিকেশন অনুমতিও বাতিল করুন।হোম স্ক্রিনে বিজ্ঞাপন এলে লঞ্চার যাচাই করুনফোনের হোম স্ক্রিনে বারবার বিজ্ঞাপন দেখা গেলে থার্ড-পার্টি লঞ্চার বা সম্প্রতি ইনস্টল করা অন্য কোনো অ্যাপ এর কারণ হতে পারে। কিছু অ্যাপ হোম স্ক্রিনে কিংবা অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহারের সময় বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে।সমস্যার উৎস হিসেবে কোনো অ্যাপকে সন্দেহ হলে সেটি সরিয়ে ফোনের নিজস্ব ডিফল্ট লঞ্চার ব্যবহার করে দেখুন। পাশাপাশি, কোন কোন অ্যাপ অন্য অ্যাপের ওপর ভেসে থাকার অনুমতি পেয়েছে, তা পরীক্ষা করুন। সন্দেহজনক অ্যাপের এমন অনুমতি থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী বন্ধ করে দিন। ফোনের মডেল ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণভেদে সেটিংসের নাম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।ব্রাউজারের পপ-আপ ও ওয়েবসাইটের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করুনইন্টারনেট ব্যবহারের সময় নিজে থেকে নতুন ট্যাব খুলে যাওয়া, অচেনা ওয়েবসাইটে চলে যাওয়া কিংবা বারবার বিজ্ঞাপন আসার ঘটনা ঘটলে ব্রাউজারের সেটিংস পরীক্ষা করা প্রয়োজন।গুগল ক্রোমের মতো ব্রাউজারে পপ-আপ ও রিডাইরেক্ট বন্ধ রাখুন। পাশাপাশি, কোন কোন ওয়েবসাইটকে নোটিফিকেশন পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন, সেই তালিকা পর্যালোচনা করুন। অপরিচিত বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটের অনুমতি বাতিল করে দিন।প্রয়োজনে ব্রাউজারের ক্যাশ ও অন্যান্য ব্রাউজিং ডেটা মুছে ফেলতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, এতে কিছু ওয়েবসাইট থেকে লগআউট হয়ে যেতে পারেন এবং নির্দিষ্ট কিছু সংরক্ষিত সেটিংস হারিয়ে যেতে পারে।গুগল প্লে প্রটেক্ট দিয়ে ক্ষতিকর অ্যাপ পরীক্ষা করুনফোনে ক্ষতিকর অ্যাপ থাকার আশঙ্কা হলে গুগল প্লে স্টোরের প্লে প্রটেক্ট ব্যবহার করে স্ক্যান চালাতে পারেন। এই সুবিধাটি ফোনের অ্যাপ পরীক্ষা করে সম্ভাব্য ক্ষতিকর সফটওয়্যার শনাক্ত করতে সহায়তা করে।এ ছাড়া ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপগুলো নিয়মিত আপডেট রাখুন। অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে এপিকে (APK) ফাইল ডাউনলোড করা এড়িয়ে চলুন। কোনো অ্যাপ তার কাজের সঙ্গে সম্পর্কহীন অতিরিক্ত অনুমতি চাইলে সেটি দেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নিন।বিজ্ঞাপন এড়াতে আরও যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেনফোনে বিজ্ঞাপন দেখা গেলেই ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক বিনা মূল্যের অ্যাপ তাদের আয়ের জন্য স্বাভাবিকভাবেই বিজ্ঞাপন দেখায়। তবে কোনো অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ঘন ঘন ফুল-স্ক্রিন বিজ্ঞাপন আসা, ফোন নিজে থেকে অচেনা ওয়েবসাইট খুলে ফেলা কিংবা অস্বাভাবিক আচরণ করার বিষয়গুলো অবহেলা করা উচিত নয়।এ ধরনের বিজ্ঞাপনে দেখানো পুরস্কার, লটারি বা ফোনে ভাইরাস থাকার ভুয়া সতর্কবার্তার ফাঁদে পা দেবেন না। অপরিচিত লিংকে প্রবেশ করে পাসওয়ার্ড, ব্যাংকিং তথ্য কিংবা ওটিপি (OTP) দেওয়াও বিপজ্জনক হতে পারে।তাই প্রথমে বিজ্ঞাপনের উৎস শনাক্ত করুন। এরপর সন্দেহজনক অ্যাপ মুছে ফেলা, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করা এবং ব্রাউজারের অনুমতি নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নিন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থা অনাকাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপনের সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
১৮ ঘন্টা আগে
সহজ কিস্তি সুবিধায় প্রিমিয়াম অ্যাপল ডিভাইস গ্রাহকদের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে বিশেষ সুযোগ নিয়ে এসেছে গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার। নির্দিষ্ট ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ০% সুদে ২৪ মাসের ইএমআই (EMI) সুবিধায় কেনা যাবে আইফোনের নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেলগুলো। মাত্র ১১,৪৫৯ টাকায় আইফোন ১৮ প্রো, ১২,৫০ত টাকায় আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং ৭,৯১৭ টাকায় আইফোন এয়ার কেনার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা। দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির ২৪টি আউটলেট থেকে এই অফার উপভোগ করা যাবে।মডেলভেদে ফোনগুলোর ফিচার ও মূল্যের বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো-আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স (iPhone 18 Pro Max)সিরিজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও শক্তিশালী ফোন এটি।• মূল্য: নগদ বা ক্যাশ ডিসকাউন্ট মূল্য ২,৯৯,৯৯৯ টাকা। ২৪ মাসের কিস্তিতে প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা থেকে শুরু। • ডিসপ্লে: ৬.৯ ইঞ্চি এলটিপিও সুপার রেটিনা এক্সডিআর ওএলইডি ডিসপ্লে (১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট)। • প্রসেসর: অ্যাপল এ২০ প্রো চিপসেট এবং ৭-কোর গ্রাফিক্স বিশিষ্ট অ্যাপল জিপিইউ। • ক্যামেরা: ৪৮ মেগাপিক্সেল + ৪৮ মেগাপিক্সেল + ৪৮ মেগাপিক্সেল + ১৮ মেগাপিক্সেলের চার ক্যামেরা সেটআপ। • ব্যাটারি ও চার্জিং: ৫৩৯১ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং ২৫ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা। • ওয়ারেন্টি: মোট ২ বছরের ওয়ারেন্টি (১ বছর অফিশিয়াল গ্লোবাল ও বাংলাদেশ + ১ বছর অতিরিক্ত ব্যাকআপ)। আইফোন ১৮ প্রো (iPhone 18 Pro)কম্প্যাক্ট সাইজে প্রিমিয়াম পারফরম্যান্সের অনন্য সমন্বয়।• মূল্য: নগদ বা ক্যাশ ডিসকাউন্ট মূল্য ২,৭৪,৯৯৯ টাকা। ২৪ মাসের কিস্তিতে প্রতি মাসে ১১,৪৫৯ টাকা থেকে শুরু। • ডিসপ্লে: ৬.৩ ইঞ্চি এলটিপিও সুপার রেটিনা এক্সডিআর ওএলইডি ডিসপ্লে (১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট)। • প্রসেসর: অ্যাপল এ২০ প্রো চিপসেট এবং ৭-কোর অ্যাপল জিপিইউ। • ক্যামেরা: ৪৮ মেগাপিক্সেল + ৪৮ মেগাপিক্সেল + ৪৮ মেগাপিক্সেল + ১৮ মেগাপিক্সেল কোয়াড ক্যামেরা। • ব্যাটারি ও চার্জিং: ৪০৫৬ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ব্যাটারি এবং ২৫ ওয়াট ফাস্ট ওয়্যারলেস চার্জিং। • ওয়ারেন্টি: ২ বছরের অফিশিয়াল ও এক্সটেন্ডেড ওয়ারেন্টি কাভারেজ। আইফোন এয়ার (iPhone Air)স্লিম ডিজাইন ও চমৎকার ফিচারের কম্বিনেশন।• মূল্য: ক্যাশ ডিসকাউন্ট মূল্য ১,৬৪,৯৯৯ টাকা (পূর্বমূল্য ১,৮৯,৯৯৯ টাকা)। ২৪ মাসের কিস্তিতে প্রতি মাসে ৭,৯১৭ টাকা থেকে শুরু। • ডিসপ্লে: ৬.৫ ইঞ্চি ডায়াগোনাল সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে। • প্রসেসর: শক্তিশালী অ্যাপল এ১৯ প্রো (৬-কোর সিপিইউ) প্রসেসর। • ক্যামেরা: ৪৮.০ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি ক্যামেরা + ১৮.০ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট/সেকেন্ডারি ক্যামেরা। • অন্যান্য ফিচার: ফেস আইডি (Face ID), ব্যারোমিটার, হাই ডায়নামিক রেঞ্জ জাইরোস্কোপ ইত্যাদি প্রযুক্তি। • ওয়ারেন্টি: ১ বছরের অ্যাপল অফিশিয়াল বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টি।
২ দিন আগে
বাংলাদেশে বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য চালু হওয়া এ সেবা ব্যবহারে আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করে স্যাটেলাইট সংযোগের জটিল সেটআপ করার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সেবাটি ব্যবহারের জন্য MyBL অ্যাপের মাধ্যমে সুবিধাটি পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করা যেতে পারে।ধাপে ধাপে যা করবেন-১. ৪জি ফোন ও বাংলালিংক সিম নিশ্চিত করুন: আপনার ফোনে ৪জি সুবিধা থাকতে হবে এবং ফোনে বাংলালিংক সিম ব্যবহার করতে হবে।২. ফোনের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখুন: ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও নেটওয়ার্ক সেটিংস হালনাগাদ রাখুন। ফোনে ৪জি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা চালু আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করুন।৩. MyBL অ্যাপ দেখুন: MyBL অ্যাপে প্রবেশ করে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা বা এ-সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা আছে কি না দেখুন। সেবাটি সম্পর্কে অপারেটরের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুসরণ করুন।৪. প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে সংযোগ পরীক্ষা করুন: স্যাটেলাইট সেবা পাওয়া যায় এমন এলাকায় প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলে ফোনের সংযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে যেতে পারে। সংযোগ পেতে খোলা আকাশের নিচে থাকা সহায়ক হতে পারে।৫. সংযোগ না পেলে অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন: ফোন ও সিম উপযুক্ত হওয়ার পরও সেবা না পেলে বাংলালিংকের গ্রাহকসেবা থেকে আপনার নম্বরে সুবিধাটি চালু আছে কি না এবং ব্যবহারের শর্ত জেনে নিন।কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?বাংলালিংকের তথ্য অনুযায়ী, স্টারলিংকভিত্তিক এ সেবা প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও প্রয়োজনীয় অ্যাপ ও লোকেশনভিত্তিক সেবা ব্যবহারের সুযোগ বাড়াবে। বিশেষ করে সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল, দুর্গম এলাকা এবং দুর্যোগের সময় এটি কার্যকর হতে পারে।সেবার উদ্বোধন উপলক্ষে প্রথম মাসে যেকোনো ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলালিংক। দ্বিতীয় মাস থেকে নির্দিষ্ট মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এ সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি বিনা মূল্যের এসএমএসও দেওয়া হবে।যেসব বিষয় মনে রাখা জরুরিস্টারলিংকের এ সেবা প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগের মতো নয়। বাড়িতে বা অফিসে স্যাটেলাইট ডিশ বসিয়ে ওয়াই-ফাই চালানোর পরিবর্তে, এখানে উপযুক্ত মোবাইল ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযোগ পায়।যদিও সেবাটি সব এলাকায় সব সময় একইভাবে কাজ করবে- এমন নিশ্চয়তা নেই। স্যাটেলাইটের আওতা, ফোনের সামঞ্জস্য, অপারেটরের শর্ত এবং সেবার প্রাপ্যতার ওপর সংযোগ নির্ভর করতে পারে। তাই শুধু ফোনের সেটিংস পরিবর্তন করলেই যে সেবা চালু হবে, তা নয়।বাংলাদেশে বর্তমানে এ সেবা বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য চালু হয়েছে। অন্য অপারেটরের সিম ব্যবহারকারীরা একই সুবিধা পাবেন- এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।//L//
৩ দিন আগে
মহাকাশে দ্রুতগতির একটি মহাকাশ বর্জ্যের আঘাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)। গত ২৩ আগস্ট স্যাটেলাইটটির মাত্র ৮৫২ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল মহাকাশ বর্জ্যটি। নাসার সতর্কবার্তা পাওয়ার পর গাজীপুরের গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতায় শেষ মুহূর্তে স্যাটেলাইটটির অবস্থান সামান্য পরিবর্তন করে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানো হয়।বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।তিনি বলেন, ২৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে নাসা থেকে বিএসসিএলকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে জানানো হয়, একটি দ্রুতগতির মহাকাশ বর্জ্য পরবর্তী ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বিএস-১-এর ৮৫২ মিটারের মধ্যে চলে আসতে পারে। সংঘর্ষ হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কার কথাও জানানো হয়।চুক্তি অনুযায়ী, নাসা প্রতি দুই ঘণ্টা পর স্যাটেলাইটটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেয়। তবে ওই দিনের সর্বশেষ বার্তাটি ছিল জরুরি ও সতর্কতামূলক।ইমাদুর রহমান জানান, ওই পরিস্থিতিতে বিএস-১-এর অবস্থান পরিবর্তন করা ছাড়া উপায় ছিল না। সামনে, পেছনে বা ডানে সরানোর সুযোগ ছিল না। বাঁ দিকে সরালে অন্য একটি সক্রিয় স্যাটেলাইটের কাছাকাছি চলে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন।পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রকৌশলীরা স্যাটেলাইটটিকে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেন। মহাকাশ বর্জ্যটি নিরাপদে অতিক্রম করার পর বিএস-১-কে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ঘটনাটি উচ্চ প্রযুক্তির একটি স্পর্শকাতর ব্যবস্থা পরিচালনায় দেশের নিজস্ব প্রকৌশলীদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে।বিএসসিএল জানিয়েছে, নাসার তথ্য অনুযায়ী স্যাটেলাইটটির দিকে এগিয়ে আসা মহাকাশ বর্জ্যটি ভারতের ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটের অংশ। ভারত ১৯৮২ সালের ১০ এপ্রিল এটি উৎক্ষেপণ করেছিল। যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটটি অকার্যকর হয়ে যায় এবং আর্থ স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।বাংলাদেশ ২০১৮ সালের মে মাসে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠায়। ১২ মে বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ ব্লক ৫ রকেটের মাধ্যমে বিএস-১ উৎক্ষেপণ করা হয়।ফ্রান্সের থালেস এলিনিয়া স্পেস নির্মিত স্যাটেলাইটটি ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে ভূস্থির কক্ষপথে অবস্থান করছে। নির্মাণ ও উৎক্ষেপণে এর ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। স্যাটেলাইটটির নির্ধারিত কার্যকাল প্রায় ১৫ থেকে ১৮ বছর।বিএস-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহের অধিকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হয়। এর মাধ্যমে দেশের দূরবর্তী অঞ্চলে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে।
৫ দিন আগে