ব্যর্থতাকে আমরা সাধারণত হতাশা ও পরাজয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। কোনো কাজে সফল না হলে অনেকেই নতুন করে চেষ্টা করার সাহস হারিয়ে ফেলেন। অথচ ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ব্যর্থতার পর আবার উঠে দাঁড়ানোই সাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে তা থেকে শেখার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১৩ অক্টোবর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবস।প্রতি বছর এ দিনে মানুষকে ব্যর্থতাকে নতুনভাবে দেখার আহ্বান জানানো হয়। এ দিবসের মূল লক্ষ্য হলো, ব্যর্থতাকে লজ্জা বা পরাজয় হিসেবে না দেখে শেখা, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং নিজেকে উন্নত করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।দিবসটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি চেষ্টা সফল না হলেও তা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব। ভুলের কারণ বুঝতে পারলে পরবর্তী চেষ্টায় আরও ভালো করার সুযোগ তৈরি হয়। তাই ব্যর্থতার ভয় যেন নতুন কিছু শেখা বা উদ্যোগ নেওয়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই বার্তাই দেওয়া হয় এ দিনে।যেভাবে শুরু আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবস২০১০ সালে ফিনল্যান্ডের আল্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়। সে সময় ফিনল্যান্ডে নতুন ব্যবসা ও উদ্যোগ শুরু করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার ভয় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ পরিস্থিতি বদলাতে শিক্ষার্থীরা ব্যর্থতাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ দিবস পালনের প্রস্তাব দেন।এরপর ধীরে ধীরে দিবসটির পরিচিতি বাড়তে থাকে। ২০১২ সালের মধ্যে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও এতে যুক্ত হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল, ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নেওয়ার মাধ্যমে নতুন উদ্যোগ, সৃজনশীলতা ও ঝুঁকি নেওয়ার সাহস বাড়ানো।বর্তমানে প্রতি বছর ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবস পালিত হয়। এ দিবসের মাধ্যমে ব্যর্থতা নিয়ে সামাজিক নেতিবাচক ধারণা কমানো এবং সাফল্যের পথে ভুলের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।যেভাবে পালন করা যায় দিবসটিব্যর্থতা দিবস পালনের একটি উপায় হলো নিজের ভুল বা ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় এমন আলোচনা হতে পারে। এতে বোঝা যায়, ভুল করা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়; বরং তা থেকে শেখার সুযোগ রয়েছে।এ দিনে নতুন কোনো কাজের চ্যালেঞ্জ নেওয়া যেতে পারে। যেমন, নতুন কোনো দক্ষতা শেখা, ছবি আঁকা কিংবা সহজ কোনো খেলা বা সৃজনশীল কাজের চেষ্টা করা। লক্ষ্য নিখুঁতভাবে কাজটি শেষ করা নয়, বরং চেষ্টা করার অভিজ্ঞতা অর্জন করা।কর্মশালার আয়োজন করেও দিবসটি পালন করা যায়। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা ভুলের ভয় ছাড়াই নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ পাবেন। একইভাবে এমন চলচ্চিত্র দেখা যেতে পারে, যেগুলো প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। পরে সেগুলোর ব্যর্থতার কারণ ও সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।ব্যর্থতা থেকে শেখার গুরুত্বব্যর্থতার অভিজ্ঞতা মানুষকে নিজের দুর্বলতা বুঝতে, ভুল সংশোধন করতে এবং নতুনভাবে পরিকল্পনা করতে সাহায্য করে। কোনো উদ্যোগ প্রত্যাশামতো সফল না হলে হতাশ হয়ে থেমে যাওয়ার বদলে কী শেখা গেল, তা খুঁজে বের করা জরুরি।আন্তর্জাতিক ব্যর্থতা দিবসের মূল বার্তাও তাই—ব্যর্থতা জীবনের শেষ নয়। প্রতিটি চেষ্টা থেকে কিছু না কিছু শেখা যায়। সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে আবার চেষ্টা করার মধ্য দিয়েই তৈরি হয় এগিয়ে যাওয়ার পথ।সূত্র: ডেইজ অফ দ্য ইয়ার
১৬ ঘন্টা আগে
শরীরের মূল কাঠামো ধরে রাখা আর স্বাভাবিক চলাফেরার পেছনে সবটুকু অবদান হাড়ের। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নীরব ঘাতকের মতো কমতে থাকে হাড়ের ঘনত্ব, তৈরি হয় দুর্বলতা। বিশেষ করে বয়স বাড়লে কিংবা নারীদের মেনোপজ-পরবর্তী সময়ে হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে ‘অস্টিওপোরোসিস’ বা হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।তবে আশার কথা হলো, সঠিক খাদ্যাভ্যাসই পারে হাড়কে দীর্ঘদিন মজবুত রাখতে। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও প্রোটিনে ভরপুর এমন ৫টি খাবারের কথা জেনে নেওয়া যাক, যা হাড়ের জন্য একেবারে প্রাকৃতিক রক্ষাকবচের মতো কাজ করে:১. দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারহাড়ের সুস্বাস্থ্যের কথা উঠলেই সবার আগে আসে দুধের নাম। এক গ্লাস দুধেই মেলে প্রায় ৩০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, যা হাড়ের গঠন ও ঘনত্ব ধরে রাখতে দারুণ কার্যকরী। দুধের পাশাপাশি টকদই ও পনিরও খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো; এগুলোতে থাকা প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম হাড়কে ভেতর থেকে শক্ত করে।২. ডিমের কুসুমশরীরে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম থাকলেও তা কাজে আসবে না, যদি ভিটামিন ডি-এর অভাব থাকে। কারণ, ভিটামিন ডি ছাড়া শরীর ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে না। ডিমের কুসুম হলো ভিটামিন ডি-এর প্রাকৃতিক উৎস। তাই হাড়ের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের নাশতায় একটি ডিম রাখা বেশ বুদ্ধিমানের কাজ।৩. মুরগির মাংস ও সামুদ্রিক মাছহাড়ের পুনর্গঠন ও পরিচর্যায় প্রোটিনের বিকল্প নেই। মুরগির মাংস প্রোটিনের চমৎকার উৎস। আর সামুদ্রিক মাছ থেকে প্রোটিনের পাশাপাশি মেলে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন ডি, যা হাড় ক্ষয়ের হার কমায় এবং ক্যালসিয়াম শোষণে সরাসরি সাহায্য করে।৪. সবুজ শাকসবজিহাড়ের সুস্থতায় কেবল ক্যালসিয়াম নয়, প্রয়োজন ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন ‘কে’। পালংশাক, ব্রোকলিসহ বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজিতে এই উপাদানগুলো প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই খাবারের পাতে নিয়ম করে তাজা শাকসবজি রাখা জরুরি।৫. বাদাম ও নানা পদের বীজতিল, কাঠবাদাম ও আখরোট হাড়ের জন্য পুষ্টির খনি বললেও ভুল হবে না। বিশেষ করে তিল ও কাঠবাদামে প্রচুর ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস থাকে। যাদের দুধে বা দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জি কিংবা হজমে সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য তিল ও বাদাম হতে পারে ক্যালসিয়ামের দারুণ বিকল্প।সহজ ও সুষম এই খাবারগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে বয়স বাড়লেও হাড় থাকবে অটুট ও তাজা।
১৭ ঘন্টা আগে
একসময় ভ্রমণ মানেই ছিল পরিবার কিংবা পরিচিত বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে কোথাও ঘুরতে যাওয়া। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। এখন একা কিংবা ছোট ছোট বন্ধুমহলের বাইরে অচেনা মানুষদের সঙ্গে গ্রুপ ট্যুরেও যাচ্ছেন অনেক নারী। বিশেষ করে নারীভিত্তিক ট্রাভেল গ্রুপগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ায় ভ্রমণের সুযোগও সহজ হয়েছে।নতুন জায়গা দেখা, অচেনা মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো সব মিলিয়ে গ্রুপ ট্যুর হতে পারে দারুণ অভিজ্ঞতা। তবে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আনন্দের পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি।বিশেষ করে প্রথমবার কোনো ট্রাভেল গ্রুপের সঙ্গে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করে নিলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।গ্রুপ বা আয়োজকের পরিচয় আগে যাচাই করুনগ্রুপ ট্যুরে যাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আয়োজক সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। শুধু ফেসবুক পেজে অনেক অনুসারী রয়েছে কিংবা সুন্দর ছবি দেখে কোনো গ্রুপকে বিশ্বাস করা ঠিক নয়।ট্যুর বুকিংয়ের আগে গ্রুপ বা ট্রাভেল এজেন্সির আগের আয়োজনগুলো সম্পর্কে খোঁজ নিন। তাদের পুরোনো ট্যুরের ছবি, অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা ও পর্যালোচনা দেখুন। সম্ভব হলে আগে ওই গ্রুপের সঙ্গে ভ্রমণ করেছেন এমন কারও সঙ্গে কথা বলুন।গ্রুপের অ্যাডমিন, ট্যুর ম্যানেজার বা গাইড কারা, তাদের পরিচয় ও যোগাযোগের নম্বরও আগে সংগ্রহ করুন। বিশেষ করে শুধু অনলাইনে পরিচিত কোনো ব্যক্তির কথায় টাকা পাঠানোর আগে তার পরিচয় ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করা জরুরি।ট্যুরের পুরো পরিকল্পনা জেনে নিনট্যুরে যাওয়ার আগে শুধু কোথায় যাবেন, সেটি জানলেই হবে না। পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার।জেনে নিন—– কোথা থেকে যাত্রা শুরু হবে– কোন কোন জায়গায় যাওয়া হবে– যাতায়াতের মাধ্যম কী– কোথায় থাকা হবে– রুমে কয়জন থাকবেন– খাবারের ব্যবস্থা কীভাবে হবে– কোনো অতিরিক্ত চার্জ আছে কি না– জরুরি প্রয়োজনে পরিকল্পনায় পরিবর্তন হলে কী হবে– ফেরার সম্ভাব্য সময় কখনঅনেক সময় বিজ্ঞাপনে একটি নির্দিষ্ট প্যাকেজ মূল্য দেওয়া হলেও কিছু খরচ এর বাইরে থাকে। তাই বুকিংয়ের আগে কোন কোন সেবা প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে এবং কোনগুলোর জন্য আলাদা অর্থ দিতে হবে, তা পরিষ্কারভাবে জেনে নিন।থাকার জায়গা সম্পর্কে আগে নিশ্চিত হনগ্রুপ ট্যুরে থাকার ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোটেল বা রিসোর্টের নাম, ঠিকানা, অবস্থান ও রুমের ধরন আগে জেনে রাখুন।একই রুমে কারা থাকবেন, সেটিও আয়োজকদের সঙ্গে আগে নিশ্চিত করা ভালো। নিজের ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি থাকলে যাত্রার আগেই তা জানিয়ে দিন। সম্ভব হলে হোটেলের নাম ও ঠিকানা পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে রাখুন।পরিবারকে ভ্রমণের তথ্য দিয়ে রাখুনঅচেনা মানুষের সঙ্গে ভ্রমণে গেলে পরিবারের অন্তত দু-তিনজন সদস্যকে আপনার ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে রাখুন।তাদের জানিয়ে রাখুন গন্তব্য কোথায়, কখন রওনা হচ্ছেন, কোন পরিবহনে যাচ্ছেন, কোথায় থাকবেন, ট্যুর আয়োজক বা গাইডের নাম ও ফোন নম্বর কী।বিদেশ ভ্রমণ হলে পাসপোর্টের কপি, ভিসা ও টিকিটের তথ্যও বিশ্বস্ত পরিবারের সদস্যের কাছে রেখে যেতে পারেন।প্রয়োজনে আপনার লাইভ লোকেশন পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করে রাখতে পারেন। তবে এটি করার সময় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখুন।প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কপি রাখুনদেশের ভেতরে ভ্রমণ হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হতে পারে। শিক্ষার্থী হলে স্টুডেন্ট আইডি এবং চাকরিজীবী হলে অফিস আইডির কপিও সঙ্গে রাখা যেতে পারে।বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, ভিসা, বিমানের টিকিট, হোটেল বুকিং এবং ট্রাভেল ইনস্যুরেন্সের মতো প্রয়োজনীয় নথির কপি রাখা ভালো।মূল কাগজপত্রের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নথির ডিজিটাল কপিও নিরাপদ অনলাইন স্টোরেজ বা নিজের ই-মেইলে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।জরুরি নম্বরগুলো ফোনে রাখুনভ্রমণের আগে ফোনে প্রয়োজনীয় নম্বরগুলো সংরক্ষণ করে রাখুন। শুধু ফোনবুকে নম্বর রাখলেই হবে না, প্রয়োজনে দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায় এমনভাবে সংরক্ষণ করুন।যেমন—– পরিবারের সদস্যদের নম্বর– ট্যুর গাইডের নম্বর– হোটেলের নম্বর– স্থানীয় জরুরি সেবা– পুলিশ– হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্র– প্রয়োজন হলে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যোগাযোগ নম্বর।বিদেশ ভ্রমণে যাওয়ার আগে যে দেশে যাচ্ছেন, সেখানে বাংলাদেশের দূতাবাস বা মিশনের যোগাযোগের তথ্যও সংগ্রহ করে রাখা ভালো।সব টাকা এক জায়গায় রাখবেন নাভ্রমণে গেলে প্রয়োজনীয় খরচের বাইরে কিছু বাড়তি টাকা সঙ্গে রাখা ভালো। তবে পুরো অর্থ এক জায়গায় না রেখে ভাগ করে রাখুন। কিছু টাকা মানিব্যাগে, কিছু নিরাপদ ব্যাগে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য কোনো সুরক্ষিত স্থানে রাখা যেতে পারে।বিদেশ ভ্রমণে গেলে নগদ অর্থের পাশাপাশি কার্ড বা অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবস্থা থাকলে সেটিও কাজে আসতে পারে।তবে টাকা বা মূল্যবান জিনিসপত্র কাউকে দেখিয়ে রাখা কিংবা অপ্রয়োজনে প্রকাশ্যে বের করা এড়িয়ে চলা ভালো।ফোন ও চার্জারের বিকল্প ব্যবস্থা রাখুনভ্রমণের সময় স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে এটি পথ খোঁজা, লোকেশন শেয়ার, ছবি তুলে তথ্য সংরক্ষণ এবং জরুরি যোগাযোগের কাজেও গুরুত্বপূর্ণ।তাই বের হওয়ার আগে ফোন পুরোপুরি চার্জ করে নিন। সঙ্গে পাওয়ার ব্যাংক রাখুন। দীর্ঘ ভ্রমণ হলে চার্জার ও প্রয়োজনীয় কেবলও সঙ্গে রাখুন। যেখানে যাচ্ছেন সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক কেমন, আগে জেনে নিতে পারলে আরও ভালো।নিজের চলাফেরার সীমা নিজেই ঠিক করুনগ্রুপে ভ্রমণ করলেও সব সময় দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অচেনা জায়গায় একা চলে যাওয়া নিরাপদ নয়। বিশেষ করে রাতের সময় নির্জন বা অপরিচিত এলাকায় একা না যাওয়াই ভালো।কেউ কোনো জায়গায় যেতে বললে সেটি কোথায় এবং কেন—তা আগে জেনে নিন। নিজের অস্বস্তি তৈরি হলে শুধু গ্রুপের সবাই যাচ্ছে বলে সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিন।অপরিচিত কারও হাতে ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন নাগ্রুপ ট্যুরে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হওয়া স্বাভাবিক। তবে নতুন পরিচিত সবাইকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য জানানো প্রয়োজন নেই। বাড়ির ঠিকানা, ব্যাংক বা আর্থিক তথ্য, ব্যক্তিগত নথি, পাসওয়ার্ড কিংবা অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয় অপরিচিত কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। একইভাবে নিজের ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকুন।ছবি ও ভিডিও শেয়ারে সতর্কতাভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি-ভিডিও তোলা স্বাভাবিক। কিন্তু কোথায় আছেন, কোন হোটেলে থাকছেন কিংবা পরবর্তী গন্তব্য কোথায় এসব তথ্য রিয়েল টাইমে প্রকাশ করলে অপরিচিত ব্যক্তিরাও আপনার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে। তাই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ভ্রমণের ছবি বা লোকেশন শেয়ার করার সময় কিছুটা সতর্ক থাকা ভালো। গ্রুপের অন্য কোনো সদস্যের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের আগে তাঁর অনুমতিও নেওয়া উচিত।প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুননিয়মিত কোনো ওষুধ খেলে সেটি পর্যাপ্ত পরিমাণে সঙ্গে রাখুন। পাশাপাশি সাধারণ প্রয়োজনের কিছু ওষুধ, ব্যান্ডেজ, স্যানিটারি ন্যাপকিন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টিস্যু ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সামগ্রী আলাদা ছোট ব্যাগে রাখতে পারেন।পাহাড়ি বা দুর্গম এলাকায় গেলে আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই পোশাক, আরামদায়ক জুতা, রেইনকোট, টর্চ ও পানির বোতলও কাজে আসতে পারে।আবহাওয়া ও স্থানীয় পরিস্থিতি জেনে নিনযে জায়গায় যাচ্ছেন, সেখানে যাওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিন। বিশেষ করে পাহাড়, সমুদ্র, বনাঞ্চল কিংবা সীমান্তবর্তী এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন দ্রুত হতে পারে। বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, ভারী বৃষ্টি, তুষারপাত কিংবা স্থানীয় কোনো নিরাপত্তা সতর্কতা থাকলে ভ্রমণসূচি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ট্যুর আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান ভ্রমণ বাতিল না করলেও স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা থাকলে সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন?ভ্রমণের সময় কোনো কারণে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে গ্রুপ লিডার বা গাইডের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। যোগাযোগ সম্ভব না হলে আগে থেকে পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করা যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করুন। অপরিচিত কারও গাড়িতে ওঠা বা অজানা স্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি যাচাই করুন।কোনো ধরনের হয়রানি, হুমকি বা অনিরাপদ পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে চুপ না থেকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রুপের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, হোটেল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রয়োজনীয় জরুরি সেবার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।আনন্দের ভ্রমণ হোক নিরাপদওগ্রুপ ট্যুরের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নতুন জায়গা ও নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ। বিশেষ করে নারী ভ্রমণকারীদের জন্য নারীভিত্তিক গ্রুপগুলো অনেক সময় ভ্রমণের সুযোগকে আরও সহজ করে দেয়।তবে কোনো গ্রুপ জনপ্রিয় বা পরিচিত হলেই চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। ভ্রমণের আগে আয়োজক যাচাই, খরচ ও পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে জানা, থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, পরিবারকে তথ্য জানানো এবং জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি এই কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।কারণ ভ্রমণের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন ফিরে আসার পরও সেই অভিজ্ঞতার স্মৃতি আনন্দের হয়। তাই ব্যাগ গোছানোর পাশাপাশি সচেতনতা ও নিরাপত্তার প্রস্তুতিটাও ভ্রমণের অংশ। এই বিষয়টি মনে রাখাই সবচেয়ে জরুরি।
১ দিন আগে
সংসার আর কর্মক্ষেত্রের টানাপোড়েনে দিন দিন বাড়ছে মানসিক অস্থিরতা ও অহেতুক উদ্বেগ, যা প্রভাব ফেলছে স্মৃতিশক্তি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে নিজেকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখা জরুরি। আর এর জন্য প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় মাত্র ৩০ সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের বিশেষ কিছু চর্চাতেই মিলবে তাৎক্ষণিক স্বস্তি।মন ভালো রাখতে ও উদ্বেগ কমাতে পাঁচটি কার্যকর উপায় নিচে দেওয়া হলো:১. সিদ্ধাসনপ্রথমে মেঝের ম্যাটে পিঠ সোজা রেখে বসুন। ধীরে ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। বাঁ পা ভাঁজ করে ডান পায়ের ওপর এবং একইভাবে ডান পা ভাঁজ করে বাঁ পায়ের ওপর রাখুন। এরপর দুই হাত হাঁটুতে রেখে 'জ্ঞান মুদ্রা' (তর্জনী ও বুড়ো আঙুল স্পর্শ করে বাকি তিন আঙুল সোজা রাখা) বজায় রেখে কিছুক্ষণ শান্ত হয়ে বসুন। এটি মন স্থির করতে সাহায্য করে।dhakapost২. বক্স ব্রিদিংস্ট্রেস বা মানসিক চাপের হরমোন নিয়ন্ত্রণে এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি শ্বাসের ব্যায়াম। প্রথমে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন এবং স্থির থাকুন। এরপর ১০ সেকেন্ড ধরে গভীরভাবে শ্বাস টানুন, শ্বাস ধরে রেখে মনে মনে ৫ পর্যন্ত গুনুন। তারপর আবার ১০ সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছেড়ে দিন।৩. ভস্ত্রিকা প্রাণায়ামমেরুদণ্ড সোজা রেখে বসে গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং কিছুক্ষণ ধরে রেখে ছেড়ে দিন। মনে রাখবেন, যতটুকু সময় নিয়ে শ্বাস নেবেন, ঠিক ততটুকু সময় নিয়েই ছাড়তে হবে। ৩ থেকে ৬ মিনিট এই ব্যায়ামটি করলে মানসিক অবসাদ দূর হয়। বিশেষ করে হাঁপানি বা সাইনাসের সমস্যা থাকলে এতে বেশ উপকার পাওয়া যায়।৪. প্রাণ মুদ্রাসোজা হয়ে বসে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস রাখুন। দুই হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুল যুক্ত করে বৃদ্ধাঙ্গুলের স্পর্শে আনুন, বাকি আঙুলগুলো সোজা রাখুন। হাত দুটি হাঁটুতে রেখে এভাবে ১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে বসলে স্নায়ু শান্ত হয় এবং ক্লান্তি দূর হয়।৫. চেস্ট ওপেনার স্ট্রেচচেয়ারে সোজা হয়ে বসে কাঁধ সমান্তরাল রাখুন। দুই হাত পিঠের পেছনে নিয়ে এক হাত দিয়ে অন্য হাত ধরুন। এবার পিঠ টানটান রেখে হাত দুটি যতটা সম্ভব পেছনের দিকে প্রসারিত করুন। বুক প্রসারিত অবস্থায় ২০-৩০ সেকেন্ড থেকে গভীরভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। এতে শরীরের পেশির জড়তা কাটে এবং দ্রুত মন সতেজ হয়।
২ দিন আগে