শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্যাংক, শেয়ারবাজার এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা থাকবে ও নিয়মিত লেনদেন চলবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশন ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়েছে।সার্কুলারে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর বুধবার ও ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি থাকবে। এই ছুটির কারণে সারা দেশে ব্যাংকগুলোর সাধারণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।তবে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও উপশাখাগুলোতে স্বাভাবিক নিয়মে সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু রাখার আগের নির্দেশনা বহাল থাকবে। দুর্গাপূজার ছুটির দিনগুলোতে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
১৪ ঘন্টা আগে
শ্রমিকদের ধর্মঘট ও কর্মস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অভিযোগে রাজধানীর উত্তরায় পাঁচটি পোশাক কারখানার উৎপাদনসহ অধিকাংশ কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাগুলোর নিরাপত্তা বিভাগ ছাড়া অন্য সব বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জারি করা এক নোটিশে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।বন্ধ ঘোষণা করা কারখানাগুলো হলো ভার্সেটাইল ফ্যাশনস (প্রা.) লিমিটেড, এমব্রেলা লিমিটেড, নাইস অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ড্যাজলিং ড্রেসেস লিমিটেড ও ওলিও অ্যাপারেলস লিমিটেড।নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন কিছু শ্রমিক বিভিন্ন দাবিতে কর্মস্থলে উপস্থিত হলেও কাজে যোগ না দিয়ে ধর্মঘট পালন করেন। এ সময় তাদের কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হলেও তা উপেক্ষা করে কর্মস্থলে উত্তেজনাকর ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ করা হয়েছে।এতে কারখানাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা এবং সম্পদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবে কারখানার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয় বিবেচনায় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নোটিশে জানানো হয়।নোটিশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাঁচটি কারখানার নিরাপত্তা বিভাগ ছাড়া অন্য সব বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। কারখানাগুলো পুনরায় চালুর তারিখ ও সময় পরে নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
২ দিন আগে
বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সৌদি আরবে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এবং রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার(১৪ অক্টোবর) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১০৬ ডলার ৫৮ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮০ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ৯৪ সেন্টে পৌঁছায়।এর আগে, মঙ্গলবারের লেনদেন শেষে ব্রেন্টের দাম ০.৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ৬৯ সেন্টে নেমে আসে। বিপরীতে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ১৪ সেন্টে স্থির হয়।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত থেকে তেল সরবরাহে ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা এবং রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এই দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়ে লেনদেন করছেন ব্যবসায়ীরা।বুধবার সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালায় হুতিরা। এতে সীমিত পরিসরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবে সংঘাত তীব্র হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়লে জ্বালানি বাজারে সরবরাহের চাপ কিছুটা কমতে পারে।সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাব্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।সূত্র: আল জাজিরা
৩ দিন আগে
২০২৬ সালের অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং কার্যকর নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের যৌথভাবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস তাদের নাম ঘোষণা করে।অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানঅর্থনীতিতে মন্দা ও দ্রুত প্রবৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য কার্যকর নীতি প্রণয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ডের গবেষণা সামষ্টিক অর্থনীতির বিশ্লেষণ এবং নীতিনির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।অর্থনৈতিক মন্দার সময় সাধারণত সুদের হার কমানো এবং সরকারি ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারে চাহিদা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে, অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো ও সরকারি ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রায় এক শতাব্দী আগে জন মেনার্ড কেইনসের অর্থনৈতিক তত্ত্বের পর থেকেই এ ধরনের স্থিতিশীলতামূলক নীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।তবে ১৯৭০-এর দশকে তেলসংকটের সময় প্রচলিত কেইনসীয় মডেলগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়। ওই সময় পশ্চিমা দেশগুলো নিম্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উচ্চ বেকারত্ব ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়। ফলে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রচলিত নীতিগুলোর সীমাবদ্ধতা নতুন করে আলোচনায় আসে।সামষ্টিক অর্থনীতির মডেলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিএই প্রেক্ষাপটে হল ও উডফোর্ড অর্থনৈতিক মডেলকে আরও বাস্তবসম্মত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাদের গবেষণায় মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ও ভোগের মতো সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকের পারস্পরিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।তাদের প্রস্তাবিত মডেলগুলো ক্ষুদ্র অর্থনীতির নীতির সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতির বিশ্লেষণকে যুক্ত করে। ফলে মানুষ কীভাবে সঞ্চয় করে, কতটা ব্যয় করে কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে—এসব সিদ্ধান্ত সামগ্রিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, তা আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হয়।ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণহল ও উডফোর্ডের গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শুধু বর্তমান পরিস্থিতি নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও বিবেচনা করে।সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়ে মানুষের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ভোগ, বিনিয়োগ ও মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে, যা শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে।অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলারের মতে, হল ও উডফোর্ডের গবেষণা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের ব্যবহৃত অর্থনৈতিক মডেলগুলোর জন্য শক্তিশালী তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছে। জ্বালানির দামের আকস্মিক বৃদ্ধি কিংবা পরিবারের ভোগব্যয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় এসব মডেল নীতিনির্ধারকদের সহায়তা করতে পারে।গত বছর অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছিলেন তিনজন২০২৫ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান জোয়েল মোকির, ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট। উদ্ভাবন কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেয়, সে বিষয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তারা পুরস্কারটি অর্জন করেন।নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস ও প্রদানপ্রক্রিয়াসুইডিশ বিজ্ঞানী ও ডিনামাইটের আবিষ্কারক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দিতে তিনি নিজের সম্পদ এ পুরস্কারের জন্য উৎসর্গ করেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও শান্তিতে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। পরবর্তীকালে অর্থনীতিতে পুরস্কার যুক্ত হয়, যার অর্থায়ন করে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।প্রতিবছর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি ও প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার বিজয়ীদের নির্বাচন করে। চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য ও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার সুইডেনের স্টকহোমে প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় নরওয়ের রাজধানী অসলোতে।
৫ দিন আগে