নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১১:২২:০৫
মাদরাসা শিক্ষককে চড় মারা সেই রুমিকে গ্রেপ্তারে অভিযান নিয়ে যা জানা গেল
মেয়েকে চুমু দেওয়ার ঘটনায় মাদরাসা শিক্ষককে প্রকাশ্যে চড় মেরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন শাহজালাল রুমি। গাজীপুরের টঙ্গীতে ঘটে যাওয়া আলোচিত এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে সব মহলে।
একটি পক্ষ যেমন ওই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এই বাবাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন, তেমনি আরেকটি পক্ষ শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার জন্য তার বিচারও দাবি করছে। এরই মধ্যে আবার যে মাদরাসাকে ঘিরে ঘটনা, তার কর্তৃপক্ষ এখন শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে তুলেছে মব তৈরি করে লুটপাটের অভিযোগ।
ঘোলাটে এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই খবর ছড়িয়েছে, শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তবে, এই তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। গাজীপুর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেই এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এমন তথ্য দেন মো. রাশেদ খাঁন।
নিজ স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক এই সহকারী বলেন, ‘গাজীপুর পুলিশ কমিশনারের সাথে আমি কথা বলেছি। টঙ্গীর মাদ্রাসার ঘটনায় শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তার করার কোনো সিদ্ধান্ত পুলিশ নেয়নি এবং পুলিশ কোনো অভিযানও পরিচালনা করেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও গ্রেফতারের কোনো পরামর্শ পুলিশকে দেওয়া হয়নি। কতিপয় মিডিয়াতে শাহজালাল রুমির গ্রেফতারের অভিযানের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) গাজীপুরের টঙ্গীতে আউচপাড়া এলাকায় একটি মাদরাসায় প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মোসলেম আহম্মদ (৩০) নামে এক শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দিয়েছেন তার স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমির করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ওই মাদরাসা শিক্ষককে সজোরে চড় মারার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় বৃহস্পতিবার থেকে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ‘কিসের চুমুরে’ বলে আরেক ব্যক্তিকে থাপ্পড় মারছেন।
এরপর আরও কয়েকজন ওই ব্যক্তিকে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পরে জানা যায়, যিনি চড় মেরেছেন তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা। তার নাম শাহজালাল রুমি। আর যাকে চড় মারা হয়েছে তিনি ওই মাদরাসারই শিক্ষক ও ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেম আহম্মদ।
ভিডিওতে দেখা যায়, চড় মারার আগে ওই শিক্ষক বলছেন, ‘স্টুডেন্টদের সাথে অন্য রকম সম্পর্ক। সবার সাথে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার এক পর্যায়ে আমি বললাম, চুমু।’
এই বলতেই ওই শিক্ষককে ‘কিসের চুমুরে’ বলে তাকে থাপ্পড় দিয়ে ফেলে দেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শাহজালাল রুমি।