বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ সকল সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অন্তর্বর্তী সরকার জাতির ক্রান্তিকালে দেশের হাল ধরে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অর্থনীতি পুনর্গঠনে’ নেতৃত্ব দিয়েছে তুলে ধরে মঙ্গলবার দুপুরে এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।স্থানীয় সময় সোমবার বিকাল পৌনে ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইল চেয়ারে বের হওয়ার সময় তোপের মুখে পড়েন নোবেলজয়ী ইউনূস।এসময় পাশে লাগেজ হাতে ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ।সোশাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কয়েকজন মুহম্মদ ইউনূসের সামনে দাঁড়িয়ে যান। তখন হুইল চেয়ার ঘুরিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসকে টার্মিনালের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।এ ঘটনায় আবারও আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও অমানবিক চরিত্রকে’ উন্মোচিত করেছে বলে মন্তব্য করেন মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারে থাকা নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের এমন অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের টানা শাসনের অবসান ঘটে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে সামনে সারিতে থাকা নাহিদ ইসলাম পরে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দেন। পরে সরকার থেকে পদত্যাগ করে গড়ে তোলেন এনসিপি।অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বর্তমান সংসদে এ সংক্রান্ত বিলও পাস হয়েছে।সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ বলেন, এ দেশের জনগণের কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার দুই বছর পরও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। তাদের মধ্যে অতীতের অপকর্মের জন্য ন্যূনতম অনুশোচনার কোনো লক্ষণও নেই।এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, দেশে-বিদেশে সক্রিয় এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত করতে হবে। জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিস্ট আমলের গুম, খুনে জড়িতদের বিচার শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকর করতে হবে।বিবৃতিতে তিনি ‘গণহত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে’ অবিলম্বে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার শুরুর দাবি জানান।
২৩ ঘন্টা আগে
সরকার কার্ড চালু করলে সংসদ সদস্যের (এমপি) স্ত্রী সেটা সবার আগে চাইবেন এবং এটাই বাংলাদেশের পরিস্থিতি বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় ছাত্রশক্তির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা এ সংবর্ধনার আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, কিছুদিন আগে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মতো করে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে এমপির ছেলেও সারের ডিলার হয়েছে, মেয়েও পেয়েছে, শ্যালিকাও পেয়েছে।এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, এমনকি বিধবা কার্ডও যদি দেওয়া হয় এবং কার্ডের টাকা যদি দেওয়া হয়, এখানে এমপির বউ সবার আগে পাবে। বাংলাদেশের পরিস্থিতিই হচ্ছে এমন। বিধবা কার্ড চালু হলে এমপির বউ সবার আগে বলবে, ‘আমাকে একটা দাও।’অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিয়েও কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাটাকে বোঝেন—‘উনাকে (উপাচার্য) কোনো টিচার চায় না, উনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও চায় না, উনাকে উনার কলিগরাও চায় না; নির্লজ্জের মতো আজকে তালা ভেঙে উনি উনার চেয়ার দখল করেছেন। উনার তো ন্যূনতম লজ্জার একটি বিষয় আছে। উনি কী করছেন, ছাত্রদলের কয়েকজন গুন্ডা নিয়ে উনি রুমের তালা ভাঙছেন।’হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, সরকার তাকে চুয়েটে নিয়োগ দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করা বন্ধ করে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও ক্লাস নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি প্রায় এক মাস ধরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বসে অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তাকে নিতে চায় না, লজ্জা নেই তার।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এনসিপির এই মুখ্য সংগঠক বলেন, সমাজে এ ধরনের মানসিক অধঃপতনগুলো হচ্ছে। অধঃপতনগুলোর বিরুদ্ধে আপনাদের সব সময় সচেতন থাকতে হবে।শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যারা দাড়ান, যাদের কাছে শিক্ষার চেয়ে পদ বড় হয়ে ওঠে; তাদের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জোবায়ের সরদার, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন।
১ দিন আগে
সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর প্রেস সেক্রেটারির ভাষ্য, একদল দুষ্কৃতকারী এ হামলা চালিয়েছে।জাপা চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি শৌর্য দীপ্ত সূর্য গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি, আজ সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে একদল দুষ্কৃতকারী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জনাব জি এম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হামলা করে।”ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ১০টায় ব্যানার নিয়ে একদল নারী-পুরুষ বাসার সামনে অবস্থান নেন। মিনিট দশেক পরে সেখান থেকে জি এম কাদেরের বাসায় ইটপাটকেল ছোড়া হয়। একপর্যায়ে লোকজন ভাঙচুর শুরু করে।যোগাযোগ করা হলে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, “সকালবেলা আমি নাশতা করছিলাম। এমন সময় হঠাৎ করে চারদিক থেকে বাসায় ঢিল ছোড়া শুরু হয়। সকালবেলা হওয়ার কারণে তখন বাসায় তেমন কেউ ছিল না।“জানালার কাচ ভেঙে ড্রয়িংরুমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। তবে বাসার গেটে তালা লাগানো থাকায় কেউ ভেতরে ঢুকতে পারেনি।”হামলাকারী কারা, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি ভেতরে ছিলাম, তারা কারা আমি বুঝতে পারিনি।”উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, বেলা ১১টার দিকে অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, জি এম কাদেরের বাসায় হামলা হয়েছে।“আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে যাই, কিন্তু কাউকে পাইনি। সাধারণ জনতার ব্যানারে ৩০-৪০ জন ওই বাসায় হামলা চালিয়েছে। তারা বাইরে থেকেই ঢিল ছুড়ে ভাঙচুর করেছে, তবে ভেতরে কেউ ঢুকতে পারেনি।”বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানান তিনি।
২ দিন আগে
বাংলাদেশ না চাওয়া জামায়াতে ইসলামী প্রতিবাদ করছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি, বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত আয়াসকে নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রতারক উজ্জ্বল ওরফে আয়াসের পেছনে রয়েছেন জামায়াতের আমিরের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির।রোববার (১১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।পোস্টে এনসিপিরও আয়াসের জন্য মন কাঁদছে মন্তব্য করে রাশেদ খাঁন বলেন, তারা আয়াসের পাশে দাঁড়াতে পারছে না। তবে জামায়াত সরাসরি আয়াসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আয়াস আসলে কে এবং তাকে পরিচালনা করেন কে।রাশেদ খাঁনের দাবি, ময়মনসিংহের উজ্জ্বল ঢাকায় এসে নাম, চুলের ধরন ও চেহারায় কিছুটা পরিবর্তন এনে জুলাই যোদ্ধা আয়াস পরিচয়ে সামনে এসেছেন। তার বিরুদ্ধে আগে প্রতারণার মামলা ছিল এবং সে মামলায় তিনি জেলও খেটেছেন বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। তার ভাষ্য, মামলাটি এখনো বিচারাধীন।আয়াসকে রোববার প্রিজন ভ্যান থেকে তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে লগইন করে সব তথ্য মুছে ফেলার কথা বলতে শোনা গেছে উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন করেন, তার হোয়াটসঅ্যাপে কী রয়েছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার জন্য আয়াসকে চুনকালি কেনার টাকা দিয়েছেন জামায়াতের আমিরের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। জুলাইয়ের নামে বিতর্কিত সংগঠন ও কর্মকাণ্ডকে অর্থ ও পরামর্শ দিয়ে এই আইনজীবী পৃষ্ঠপোষকতা করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরকে রক্ষা করতেই আয়াসকে হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য মুছে ফেলতে বলা হয়েছে।তবে ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁনের করা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২ দিন আগে